সিরাজগঞ্জ শহরে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিচার দাবি করেছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের ইলিয়ট ব্রিজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও খলিফাপট্টি এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস রোড এলাকায় অবস্থিত সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে বগুড়ায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি খবর পান, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করতেন এবং এখনও স্ট্যান্ডিং আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাত্তার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে লোকজন এনে শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। তার ভাড়াটিয়া লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার স্ত্রী-সন্তানকে আতঙ্কিত করেছে।
তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি, তবু দুঃখ ছিল না। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের দোসর ছাত্তার তার ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে এ হামলা চালিয়েছে। আমি সিরাজগঞ্জের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাইয়ের কাছে বিচার চাই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে বিচার চাই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাচ্চু আরও বলেন, যদি এই বিচার আমি না পাই, তাহলে এই দল করা আমার বৃথা বলে মনে করি। আমার স্ত্রী যখন কান্না করে আমাকে ফোন করেছে, আমি নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি। আমি সিরাজগঞ্জবাসীর কাছে বিচার চাই। সাংবাদিক ভাইদের বলব, আপনারা ঘটনা তদন্ত করে দেখুন কারা এর জন্য দায়ী।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি করেন, ৫ আগস্টের পরও সাত্তার আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেননি এবং বিএনপিতেও যোগ দেননি। তার নেতৃত্বেই এসব ঘটনা ঘটছে।
এদিকে শহর যুবদলের সহ-সভাপতি সোহান আহমেদ শামীম এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, আমরা যখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে মিছিল করছি, তখনই সাইদুর রহমান বাচ্চু ও ছাত্রদল সভাপতি সবুজের লোকজন আওয়ামী লীগের টাকা খেয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। পরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর জবাব দেয়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, কেন এবং কী নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে, সে বিষয়ে বলতে পারব না। তবে সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
উল্লেখ্য, সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















