পাবনায় এক জামায়াত কর্মীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গনি (৪৫) পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদাহ গ্রামের মৃত খোদা বক্সের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল গনি নিজ বাড়িতে ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আব্দুল গনি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি অভিযোগে বলেন, আব্দুল গনিকে হত্যার পেছনে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান এবং তার অনুসারীরা জড়িত।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে আবু সাঈদ খান বা তার অনুসারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আব্দুল গনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল গনির মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে আব্দুল গনির মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান।
এক বিবৃতিতে তারা আব্দুল গনির ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















