কুমিল্লায় নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপ্রতিম শাহরিয়ারকে হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা নাহিদা বেগম। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক, এ দেশের দরকার নাই।’
অপ্রতিমের বাড়িতে এখন চলছে মাতম। দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে তার হাসিমুখের স্মৃতি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক বাবা, আর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হন অপ্রতিম। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
শনিবার সকালে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তার সঙ্গে থাকা মায়ের দেওয়া আইফোনটিও পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে ফিরে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুতি জানিয়েছিলেন অপ্রতিমের মা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবিত সন্তানকে ফিরে পাননি তিনি।
রোববার সকালে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে কোটবাড়ী বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে

ডেস্ক রিপোর্ট 


















