ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি রিমান্ডে আচারের টক-ঝাল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ১৫ হাজার টাকার দলিলে ২ লাখ টাকা ঘুষ, এরপর কমিশনও ২০ হাজার পরামর্শ নিতে গিয়ে জজের সঙ্গে প্রেম, তারপর বিয়ে, জজ হলেন চৈতি নিজেও আওয়ামী সন্ত্রাস মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা রাজপথে থাকবে ছাত্রদল: সহ-সভাপতি বাসিত দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, মন্ত্রীর মেয়েসহ ৪ জনের মৃত্যু সালাহউদ্দিন সাহেব সব মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে দায়িত্বশীল, শুধু নিজেরটা পারেন না: জামায়াত আমির

ক্লাস শুরু হলেও হলে নবীনরা সিট পাচ্ছে না, প্রতিবাদে ডাকসুর অবস্থান কর্মসূচি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫–২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট সমস্যার সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনের ক্রমাগত অসঙ্গতি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি রোধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ডাকসু ও হল সংসদ নেতারা। দাবি না মানলে প্রথম বর্ষের সব ধরনের ক্লাস বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের মূল ফটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতৃবৃন্দ।

পরে তারা রেজিস্ট্রার ভবনের ভেতরে মিছিল নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় তলা প্রদক্ষিণ করেন। এসময় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘সিট আমার অধিকার, কেড়ে নেয়ার সাধ্য কার’, ‘প্রথম বর্ষে বৈধ সিট করতে হবে’, ‘গেস্টরুম–গণরুম চলবে না’, ‘সিট নিয়ে টালবাহানা চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতির কারণে নতুন শিক্ষার্থীরা চরম সিট সংকটে পড়েছেন, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকেন, শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে সেবা পাচ্ছে না।

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা বিগত প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম যে প্রথম বর্ষের যাদের সিট বরাদ্দ দিতে পারবেন না, তাদের আবাসিক বৃত্তি দেওয়া হোক। প্রশাসন আমাদের বলেছিল, আমরা এ বছর যাদের বৃত্তি দিচ্ছি, সামনের বছর থেকে সকল শিক্ষার্থীদের দেব। এবছর আমরা দেখলাম প্রশাসন সিট বরাদ্দ না দিয়েই ক্লাস শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষকেরা চিন্তা করছেন না শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকছে, কোথায় খাবে। ডাকসুতে শিক্ষার্থীরা আসে, অভিভাবকেরা আসে, হাহাকার করে। আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে এ বছর জট না বাধে। আমরা ফরমালি জানিয়েছি, ইনফরমালি জানিয়েছি, প্রত্যেকটা হলের প্রোভোস্টের সাথে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছি। হল সংসদের ভিপি জিএসরা জানিয়েছে। প্রোভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আজ রাত পোহালেই অনেক শিক্ষার্থী জানে না কোথায় থাকবে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে সিট নীতিমালা চূড়ান্ত করা, যাদের সিট দেওয়া সম্ভব নয় তাদের জন্য আবাসন ভাতা বা শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রথম বর্ষের সব ধরনের ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর এক ব্রিফিংয়ে ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজকের মধ্যেই হলগুলোতে সিটসংক্রান্ত সার্কুলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রতিটি হলে ফাঁকা সিটের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

এসময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখনো বহু পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীরা হলে সিট দখল করে আছেন, যার ফলে নবীনদের আবাসন সংকট তীব্র হচ্ছে। যুবদল ও ছাত্রদলের ৩৬ জনকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা জবাব চেয়েছি, তখন তারা বলেছে নীতিমালা অনুসারে দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা নীতিমালা প্রিন্ট করে দেখিয়েছি, তখন তারা বলেছে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়েরসহ ডাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির

ক্লাস শুরু হলেও হলে নবীনরা সিট পাচ্ছে না, প্রতিবাদে ডাকসুর অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট সময় ১১:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫–২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট সমস্যার সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনের ক্রমাগত অসঙ্গতি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি রোধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ডাকসু ও হল সংসদ নেতারা। দাবি না মানলে প্রথম বর্ষের সব ধরনের ক্লাস বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের মূল ফটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতৃবৃন্দ।

পরে তারা রেজিস্ট্রার ভবনের ভেতরে মিছিল নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় তলা প্রদক্ষিণ করেন। এসময় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘সিট আমার অধিকার, কেড়ে নেয়ার সাধ্য কার’, ‘প্রথম বর্ষে বৈধ সিট করতে হবে’, ‘গেস্টরুম–গণরুম চলবে না’, ‘সিট নিয়ে টালবাহানা চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতির কারণে নতুন শিক্ষার্থীরা চরম সিট সংকটে পড়েছেন, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকেন, শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে সেবা পাচ্ছে না।

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা বিগত প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম যে প্রথম বর্ষের যাদের সিট বরাদ্দ দিতে পারবেন না, তাদের আবাসিক বৃত্তি দেওয়া হোক। প্রশাসন আমাদের বলেছিল, আমরা এ বছর যাদের বৃত্তি দিচ্ছি, সামনের বছর থেকে সকল শিক্ষার্থীদের দেব। এবছর আমরা দেখলাম প্রশাসন সিট বরাদ্দ না দিয়েই ক্লাস শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষকেরা চিন্তা করছেন না শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকছে, কোথায় খাবে। ডাকসুতে শিক্ষার্থীরা আসে, অভিভাবকেরা আসে, হাহাকার করে। আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে এ বছর জট না বাধে। আমরা ফরমালি জানিয়েছি, ইনফরমালি জানিয়েছি, প্রত্যেকটা হলের প্রোভোস্টের সাথে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছি। হল সংসদের ভিপি জিএসরা জানিয়েছে। প্রোভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আজ রাত পোহালেই অনেক শিক্ষার্থী জানে না কোথায় থাকবে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে সিট নীতিমালা চূড়ান্ত করা, যাদের সিট দেওয়া সম্ভব নয় তাদের জন্য আবাসন ভাতা বা শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রথম বর্ষের সব ধরনের ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর এক ব্রিফিংয়ে ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজকের মধ্যেই হলগুলোতে সিটসংক্রান্ত সার্কুলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রতিটি হলে ফাঁকা সিটের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

এসময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখনো বহু পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীরা হলে সিট দখল করে আছেন, যার ফলে নবীনদের আবাসন সংকট তীব্র হচ্ছে। যুবদল ও ছাত্রদলের ৩৬ জনকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা জবাব চেয়েছি, তখন তারা বলেছে নীতিমালা অনুসারে দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা নীতিমালা প্রিন্ট করে দেখিয়েছি, তখন তারা বলেছে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়েরসহ ডাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।