ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা পুশই’নের শি’কার রোজিনা কাঁদছে,’মা, আমি বাঁচ’ব না। এখানে কোনো খাবার নেই, কিছুই নেই। চারদিকে শুধু তীব্র রোদ পো’ড়া-মা, তুমি কিছু করো…’ বিশ্বকাপে ইরান দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ঘিরে গ্রেপ্তার ৪৭,ওসি ক্লোজড জনরোষ ও পচা ডিম ছোড়ার ভয়ে বৈঠক বাতিল করলেন মমতা নারী-শিশুদের বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ লেবাননের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সদরদপ্তরে ইসরায়েলি হামলা ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা মুছে ফেলতে চান তামিম লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সম্পদ জব্দ থাকবে: ট্রাম্প

“ভারতীয় আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপস নেই”—নির্বাচন ঘিরে খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • ২৮২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধরন, প্রতীক বা জোট আলাদা হতে পারে, তবে ভারতীয় আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সকল ইসলামী শক্তিকে একটি যৌথ আদর্শিক প্ল্যাটফর্মে একত্র হতে হবে।

শনিবার ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক নির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি পরিচালনা করেন দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

সভায় আগামী শুক্রবার (২৭ জুন) দেশব্যাপী ‘মুসলিম ভূখণ্ডে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে’ বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিকশা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ গ্রহণ ও দিকনির্দেশনার দিন নির্ধারণ করা হয় ২৯ জুন।

সভায় মামুনুল হক বলেন, ইরান ও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুধুই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়; এটি ইনসাফ বনাম দখলদারিত্বের একটি স্পষ্ট রূপ। ইরান যে সাহসিকতায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আত্মমর্যাদাময় দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের সকল শক্তিকে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইসরাইলি বিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশপথ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, এই মুহূর্তে দ্বিধাহীন ও আপসহীন ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।

জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ও ভারতীয় আধিপত্য রোধে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে আদর্শিক ঐক্য অপরিহার্য। অতীতে যেভাবে তারা শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, ভবিষ্যতেও তা অটুট রাখতে হবে।

তিনি ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে বলেন, ঘোষিত সম্ভাব্য জাতীয় ঐক্যরূপরেখা একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে তাতে ইসলামপন্থিদের যথাযথ স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ না থাকলে প্রকৃত জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে না।

আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, পরাজিত ও জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ এখন একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। শাপলা চত্বর ও অন্যান্য সময়ের গণহত্যা, গুম-খুন, দমন-পীড়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থার ধ্বংসের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আশরাফ, রেজাউল করীম জালালী, মুফতী সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কোরবান আলী কাসেমী, আব্দুল আজীজ, মুফতী শরাফত হোসাইন, তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, শরীফ সাইদুর রহমান, আজিজুর রহমান হেলাল, এনামুল হক মূসা, আবুল হাসানাত জালালী, মুহাম্মদ ফয়সাল, আবু সাঈদ নোমান, মুফতি ওজায়ের আমীন, নিয়ামতুল্লাহ, মুহসিনুল হাসান, জহিরুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, রুহুল আমীন খান, শরীফ হোসাইন, হাসান জুনাইদ, জসিম উদ্দীন, হোসাইন আহমদ, আব্দুন নুর, আব্দুস সোবহান, মুহসিন উদ্দীন বেলালী, আব্দুল মুমিন, মামুনুর রশীদ, লিয়াকত হোসাইন, আমজাদ হুসাইন, মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, ওয়ালিউল্লাহ, আনোয়ার মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী, রেজাউল করিম, ছানাউল্লাহ আমিনী, আনোয়ার হোসাইন রাজী, রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা

“ভারতীয় আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপস নেই”—নির্বাচন ঘিরে খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক

আপডেট সময় ০৯:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধরন, প্রতীক বা জোট আলাদা হতে পারে, তবে ভারতীয় আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সকল ইসলামী শক্তিকে একটি যৌথ আদর্শিক প্ল্যাটফর্মে একত্র হতে হবে।

শনিবার ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক নির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি পরিচালনা করেন দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

সভায় আগামী শুক্রবার (২৭ জুন) দেশব্যাপী ‘মুসলিম ভূখণ্ডে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে’ বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিকশা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ গ্রহণ ও দিকনির্দেশনার দিন নির্ধারণ করা হয় ২৯ জুন।

সভায় মামুনুল হক বলেন, ইরান ও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুধুই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়; এটি ইনসাফ বনাম দখলদারিত্বের একটি স্পষ্ট রূপ। ইরান যে সাহসিকতায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আত্মমর্যাদাময় দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের সকল শক্তিকে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইসরাইলি বিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশপথ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, এই মুহূর্তে দ্বিধাহীন ও আপসহীন ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।

জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ও ভারতীয় আধিপত্য রোধে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে আদর্শিক ঐক্য অপরিহার্য। অতীতে যেভাবে তারা শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, ভবিষ্যতেও তা অটুট রাখতে হবে।

তিনি ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে বলেন, ঘোষিত সম্ভাব্য জাতীয় ঐক্যরূপরেখা একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে তাতে ইসলামপন্থিদের যথাযথ স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ না থাকলে প্রকৃত জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে না।

আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, পরাজিত ও জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ এখন একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। শাপলা চত্বর ও অন্যান্য সময়ের গণহত্যা, গুম-খুন, দমন-পীড়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থার ধ্বংসের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আশরাফ, রেজাউল করীম জালালী, মুফতী সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কোরবান আলী কাসেমী, আব্দুল আজীজ, মুফতী শরাফত হোসাইন, তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, শরীফ সাইদুর রহমান, আজিজুর রহমান হেলাল, এনামুল হক মূসা, আবুল হাসানাত জালালী, মুহাম্মদ ফয়সাল, আবু সাঈদ নোমান, মুফতি ওজায়ের আমীন, নিয়ামতুল্লাহ, মুহসিনুল হাসান, জহিরুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, রুহুল আমীন খান, শরীফ হোসাইন, হাসান জুনাইদ, জসিম উদ্দীন, হোসাইন আহমদ, আব্দুন নুর, আব্দুস সোবহান, মুহসিন উদ্দীন বেলালী, আব্দুল মুমিন, মামুনুর রশীদ, লিয়াকত হোসাইন, আমজাদ হুসাইন, মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, ওয়ালিউল্লাহ, আনোয়ার মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী, রেজাউল করিম, ছানাউল্লাহ আমিনী, আনোয়ার হোসাইন রাজী, রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।