ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন কারিনা: আসিফ মাহমুদ বড় চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো ট্রাম্পের চীন সফর একই ভুল করলে বিএনপির অবস্থাও আওয়ামী লীগের মতো হবে: ফজলুর রহমান আল্লাহ আর তাকে কষ্ট দিতে চাননি, তাই রহমতের ছায়ায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন: কায়সার হামিদ স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা স্ত্রী সিরাজগঞ্জের এতিম দুই শিশুর পাশে প্রধানমন্ত্রী জামায়াত ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবে, এটা আগে কেউ মনে করতেন না: শফিকুর রহমান তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, উপজেলা যুবদল নেতা বহিষ্কার আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব

যদি কোনোদিন জেলে যেতে হয়, তাহলে কি সেখানে আমি উঁচু কমোড পাব?: প্রেস সচিব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

এবার শেখ হাসিনা সরকার জেলে পাঠালে সেখানে হয়তো উঁচু কমোড পাবেন না। সেজন্য গত বছর গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হলে জেলে উঁচু কমোড পাওয়ার জন্য তার হয়ে নিজের স্ত্রীকে আইনজীবী নিয়োগ করতে বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

গতকাল রোববার ২০ জুলাই (রোববার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, আজও আমার সবচেয়ে বড় ভয়- যদি কোনো দিন আমাকে জেলে যেতে হয়, তাহলে কি সেখানে আমি উঁচু কমোড পাব?

ফেসবুকে প্রেস সচিব লেখেন, গত বছরের কারফিউ ও ইন্টারনেট শাটডাউনের সময় লন্ডনভিত্তিক বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক সাংবাদিক প্রথম আমাকে সতর্ক করেন, যে কোনো মুহূর্তে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তিনি (বিবিসির সাংবাদিক) বলেন, হাসিনা সরকারের এক মন্ত্রী আমাকে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে এবং ‘সন্ত্রাসীদের মুখপাত্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। আমি তখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী এবং আরও দুজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মী একই রকম সতর্কবার্তা দেন। তারা বলেন, হাসিনা সরকার জানে যে, ইন্টারনেট শাটডাউনের সময়ও এএফপির দ্রুতগতির ইন্টারনেট চালু ছিল এবং আমি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের রিপোর্ট, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে সহায়তা করছিলাম।

শফিকুল আলম বলেন, তখন আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল গ্রেফতার হওয়া নয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, আমাকে গ্রেফতার করা হলেও তারা আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করবে না- কারণ আমি তখন এএফপির ব্যুরো চিফ ছিলাম। আর এএফপি ফ্রান্স সরকারের মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা। কিন্তু আমাকে ভীষণ আতঙ্কিত করেছিল এই চিন্তাটা- যদি আমাকে সাধারণ কোনো কারাগার সেলে পাঠানো হয়, যেখানে উঁচু কমোড নেই! আমার হাঁটু ভাঙা এবং স্কোয়াট করে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর উপায় আমার নেই।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব লেখেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, যদি আমাকে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে তিনি যেন প্রথম কাজ হিসেবে একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করেন। যিনি আমার কারাগারে উঁচু কমোড ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। আমার স্ত্রী বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন আমি ঠাট্টা করছি না। আমি এএফপির সহকর্মী, আমার সাবেক সহকর্মী ও কয়েকজন শীর্ষ সাংবাদিককেও বলেছিলাম যেন তারা আমার পক্ষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

তিনি লেখেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি শেষ পর্যন্ত কারাগারে যাইনি। কিন্তু আজও আমার সবচেয়ে বড় ভয়- যদি কোনোদিন আমাকে জেলে যেতে হয়, তাহলে কি সেখানে আমি উঁচু কমোড পাব?

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস

যদি কোনোদিন জেলে যেতে হয়, তাহলে কি সেখানে আমি উঁচু কমোড পাব?: প্রেস সচিব

আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

এবার শেখ হাসিনা সরকার জেলে পাঠালে সেখানে হয়তো উঁচু কমোড পাবেন না। সেজন্য গত বছর গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হলে জেলে উঁচু কমোড পাওয়ার জন্য তার হয়ে নিজের স্ত্রীকে আইনজীবী নিয়োগ করতে বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

গতকাল রোববার ২০ জুলাই (রোববার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, আজও আমার সবচেয়ে বড় ভয়- যদি কোনো দিন আমাকে জেলে যেতে হয়, তাহলে কি সেখানে আমি উঁচু কমোড পাব?

ফেসবুকে প্রেস সচিব লেখেন, গত বছরের কারফিউ ও ইন্টারনেট শাটডাউনের সময় লন্ডনভিত্তিক বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক সাংবাদিক প্রথম আমাকে সতর্ক করেন, যে কোনো মুহূর্তে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তিনি (বিবিসির সাংবাদিক) বলেন, হাসিনা সরকারের এক মন্ত্রী আমাকে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে এবং ‘সন্ত্রাসীদের মুখপাত্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। আমি তখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী এবং আরও দুজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মী একই রকম সতর্কবার্তা দেন। তারা বলেন, হাসিনা সরকার জানে যে, ইন্টারনেট শাটডাউনের সময়ও এএফপির দ্রুতগতির ইন্টারনেট চালু ছিল এবং আমি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের রিপোর্ট, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে সহায়তা করছিলাম।

শফিকুল আলম বলেন, তখন আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল গ্রেফতার হওয়া নয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, আমাকে গ্রেফতার করা হলেও তারা আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করবে না- কারণ আমি তখন এএফপির ব্যুরো চিফ ছিলাম। আর এএফপি ফ্রান্স সরকারের মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা। কিন্তু আমাকে ভীষণ আতঙ্কিত করেছিল এই চিন্তাটা- যদি আমাকে সাধারণ কোনো কারাগার সেলে পাঠানো হয়, যেখানে উঁচু কমোড নেই! আমার হাঁটু ভাঙা এবং স্কোয়াট করে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর উপায় আমার নেই।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব লেখেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, যদি আমাকে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে তিনি যেন প্রথম কাজ হিসেবে একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করেন। যিনি আমার কারাগারে উঁচু কমোড ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। আমার স্ত্রী বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন আমি ঠাট্টা করছি না। আমি এএফপির সহকর্মী, আমার সাবেক সহকর্মী ও কয়েকজন শীর্ষ সাংবাদিককেও বলেছিলাম যেন তারা আমার পক্ষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

তিনি লেখেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি শেষ পর্যন্ত কারাগারে যাইনি। কিন্তু আজও আমার সবচেয়ে বড় ভয়- যদি কোনোদিন আমাকে জেলে যেতে হয়, তাহলে কি সেখানে আমি উঁচু কমোড পাব?