জবাবদিহির ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধীদলের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে ‘আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল’ খ্যাতি অর্জন করেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতনই ছিল তার প্রধান কাজ। এভাবে ক্ষমতার আশ্রয়ে যা খুশি করার লাইসেন্স পান তিনি।
চাকরিজীবনের শুরু থেকেই ছিলেন বেপরোয়া। চাকরিবিধির তোয়াক্কা না করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণায় জড়িয়েও বারবার পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০১১ সালে সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর একে একে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
গাজীপুরে বিএনপির জনসভা ভণ্ডুল, নারায়ণগঞ্জে গুম-চাঁদাবাজি, এবং ডিবি প্রধান হিসেবে বিরোধী দল ও হেফাজত নেতাদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচিত হন তিনি। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও তার চাঁদাবাজির ফাঁদে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিন্নমত দমনে তিনি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক নিপীড়নেও ছিলেন পারদর্শী। সাংবাদিক, ছাত্রনেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাদের তুলে এনে ব্ল্যাকমেল, মুচলেকা আদায় ও চরিত্রহনন করেছেন প্রকাশ্যে। বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ‘নিরাপত্তা হেফাজতের’ নামে আটক রেখে জোর করে ভিডিও স্টেটমেন্ট নেওয়ার ঘটনায় দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পদে পদে বিতর্ক, তবুও শাস্তি নয়—বরং একের পর এক পদোন্নতিই পেয়েছেন হারুন অর রশীদ। ফলে অনেকের প্রশ্ন—আইনের ঊর্ধ্বে ছিলেন কি এই বিতর্কিত কর্মকর্তা?

