ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান আল্লাহর আইন যারা চায়, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী: জামায়াত আমির ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি কিশোরসহ নিহত ৫ সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জিয়া মঞ্চের ’জিয়া’ গ্রেপ্তার ইয়াবা দিয়ে বাবা ও মেয়েকে ফাঁসাতে গিয়ে এসআই প্রত্যাহার তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদলের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় ও সেমিনার নরসিংদী শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের, তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত টাঙ্গাইলে মাদক ব্যবসায়ির বাড়ি ভেঙে দিল এলাকাবাসী

কোনো কোচিং ছাড়াই ঢাবি ও জবিতে চান্স পেলেন কৃষক পরিবারের ছেলে ইউসুফ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০৮ বার পড়া হয়েছে

এবার নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম যে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আল ইউসুফ। কোনো ধরনের কোচিং ছাড়াই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। আল ইউসুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২৯৯তম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২তম স্থান অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া সিরাজপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

আল ইউসুফ ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল কাদের মিস্ত্রির ছেলে। সীমিত আয় ও উপকূলীয় এলাকার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারের সহায়তা ও নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। বড় শহরে গিয়ে কোচিং করার সুযোগ না থাকলেও পাঠ্যবই-নির্ভর নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমেই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি। আল ইউসুফের এই সাফল্যে এলাকায় আনন্দ বইছে।

তার শিক্ষকরা জানান, তিনি শুরু থেকেই বিনয়ী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী ছিলেন। আধুনিক শিক্ষা সুবিধার অভাব সত্ত্বেও পাঠ্যবইয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আল ইউসুফ বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং সর্বোপরি বাবা-মায়ের দোয়াই আমার সাফল্যের মূল কারণ। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ছেলের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তার বাবা কৃষক আব্দুল কাদের মিস্ত্রি বলেন, আমি একজন কৃষক মানুষ। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। আজ তার এই অর্জনে সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান

কোনো কোচিং ছাড়াই ঢাবি ও জবিতে চান্স পেলেন কৃষক পরিবারের ছেলে ইউসুফ

আপডেট সময় ০২:২১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

এবার নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম যে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আল ইউসুফ। কোনো ধরনের কোচিং ছাড়াই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। আল ইউসুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২৯৯তম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২তম স্থান অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া সিরাজপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

আল ইউসুফ ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল কাদের মিস্ত্রির ছেলে। সীমিত আয় ও উপকূলীয় এলাকার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারের সহায়তা ও নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। বড় শহরে গিয়ে কোচিং করার সুযোগ না থাকলেও পাঠ্যবই-নির্ভর নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমেই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি। আল ইউসুফের এই সাফল্যে এলাকায় আনন্দ বইছে।

তার শিক্ষকরা জানান, তিনি শুরু থেকেই বিনয়ী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী ছিলেন। আধুনিক শিক্ষা সুবিধার অভাব সত্ত্বেও পাঠ্যবইয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আল ইউসুফ বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং সর্বোপরি বাবা-মায়ের দোয়াই আমার সাফল্যের মূল কারণ। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ছেলের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তার বাবা কৃষক আব্দুল কাদের মিস্ত্রি বলেন, আমি একজন কৃষক মানুষ। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। আজ তার এই অর্জনে সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।