ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার ঠেকাতে এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করার কথা জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ করা হলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে পারে।

নোটিশদাতার দাবি, অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ ও পণ্য সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে নোটিশে। এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নোটিশে এক হাজার টাকার নোট বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য বড় মূল্যমানের এ নোটের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম। তবে দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ গোপন রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের নোট ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। নোটিশদাতার ভাষ্য, বড় মূল্যমানের নোটের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়, যা ছায়া অর্থনীতির বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) ২০২৩ সালে জানিয়েছিল, ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তক্লিন নোট পলিসির অংশ। নোটটি প্রত্যাহারের ঘোষণা হলেও সেটির বৈধ মুদ্রার মর্যাদা বহাল রাখা হয়েছিল এবং জনগণকে ব্যাংক হিসাবে জমা বা অন্য মূল্যমানের নোটে বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং এক হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। নোটিশে তিনি অর্থনীতি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে একাধিক ডিগ্রি অর্জনের কথাও উল্লেখ করেছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার এলাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পুলিশ লাগবে না: ফজলুর রহমান

এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় ০৪:০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার ঠেকাতে এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করার কথা জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ করা হলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে পারে।

নোটিশদাতার দাবি, অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ ও পণ্য সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে নোটিশে। এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নোটিশে এক হাজার টাকার নোট বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য বড় মূল্যমানের এ নোটের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম। তবে দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ গোপন রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের নোট ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। নোটিশদাতার ভাষ্য, বড় মূল্যমানের নোটের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়, যা ছায়া অর্থনীতির বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) ২০২৩ সালে জানিয়েছিল, ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তক্লিন নোট পলিসির অংশ। নোটটি প্রত্যাহারের ঘোষণা হলেও সেটির বৈধ মুদ্রার মর্যাদা বহাল রাখা হয়েছিল এবং জনগণকে ব্যাংক হিসাবে জমা বা অন্য মূল্যমানের নোটে বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং এক হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। নোটিশে তিনি অর্থনীতি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে একাধিক ডিগ্রি অর্জনের কথাও উল্লেখ করেছেন।