বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারত প্রায় আইনগতভাবেই ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য।
শনিবার ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এক অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি স্পষ্টভাবেই দায়ী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর পথ দেখায়। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতকে বাংলাদেশের আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে বিলম্ব ছাড়াই শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করা উচিত।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা মেনে চলতে চাইলে ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে সম্মান জানানো। মুনিরুজ্জামান দাবি করেন, শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক আইনগত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং এটি প্রতিবেশী দেশের দৃষ্টিতেও সম্মান পাওয়ার যোগ্য একটি প্রক্রিয়া।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—যদি বাংলাদেশ কোনো দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিককে আশ্রয় দিত এবং আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সত্ত্বেও ফেরত না পাঠাত, তখন ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হতো? তার মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তিকে ভারত ফেরত পাঠাতে আইনগতভাবে বাধ্য।
অধিবেশনে ‘ফ্র্যাকচার্ড অর্ডার্স, ফ্লুইড লয়্যালটিজ : পাওয়ার পলিটিক্স ইন দ্য পোস্ট-অ্যালাইনমেন্ট এজ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন মালয়েশিয়ার টেইলরস বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলিয়া রোকনিফার্ড, আগোরা স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের জোভান রাটকোভিচ, ব্রাজিলের এফজিভি-এর লিওনার্দো পাজ নেভেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মারিয়ান ভিডাউরি। আলোচনাটি পরিচালনা করেন জার্মানির আরটিএল নর্ড-এর ডেভিড প্যাট্রিশিয়ান।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার প্রথম প্রত্যর্পণ অনুরোধ এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ভারত ঢাকা থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সিদ্ধান্ত জানায়নি।
মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‘অবিলম্বে হস্তান্তর’ করতে সম্প্রতি ভারতকে আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতার দায়ে তাদের দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের অন্য দেশে আশ্রয় দেওয়া গুরুতর ‘অমিত্রসুলভ’ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























