ঢাকা , সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব, খেলবেন ২০২৭ বিশ্বকাপেও! মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদিকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান পুরো রমজান মাস মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল জাতিকে বিভ্রান্ত করলে ছাড় নয়: ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে চান জয়: ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার একইসাথে সংসদ ও রাজপথে থাকবে ১১ দলীয় জোট: হামিদুর রহমান আযাদ সেই রিকশাচালকের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির, নিলেন পরিবারের দায়িত্ব পবিত্র রমজান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন নবনির্বাচিত এমপি

স্বাধীন বাংলাদেশে দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা: হাসনাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
  • ৩২৯ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও ভয়ভীতির অভিযোগ এনেছেন নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

হাসনাত বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দিন এসেছে, যখন দুদক চা খাওয়ার বিল হিসেবেও ১ লাখ টাকা দাবি করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ‘ক্লিয়ারেন্স’ দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চিকিৎসক মাহমুদা মিতু-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মিতুকে দুদকের একজন মহাপরিচালক (ডিজি) ও একজন উপপরিচালকের (ডিডি) পরিচয়ে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়।

ফোনে তাকে বলা হয়,
“আপনি তো ডাক্তার, আপনার টাকার অভাব হওয়ার কথা না। আপনি ১ লাখ টাকা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যান।”

হাসনাত আরও লিখেছেন, “যখন মিতু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয়—‘টাকা দিবেন কি না? না দিলে খবর করে ছাড়ব।’”

তিনি দাবি করেন, দুদকের সর্বনিম্ন ঘুষের হার এখন ১ লাখ টাকা, আর এ ঘটনায় মাহমুদা মিতু ফোনালাপ ভিডিও করে রেখেছেন এবং ঘুষ দেননি। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, “কত সাধারণ মানুষ এই ‘চায়ের বিল’ দিয়ে দিয়েছেন, তার কোনো হিসাব নেই।”

হাসনাত আরও বলেন:

“আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—মাহমুদা মিতু কেন, আমার নামেও যদি এক পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, সেটা প্রকাশ করুন। কাউকে ফোন করার দরকার নেই—দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে মামলা দিন। কিন্তু নিরীহ মানুষদের কেন চাঁদাবাজির মুখে ফেলা হচ্ছে?”

তিনি সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আশা করেছিলাম দুদক নতুন রূপে গড়ে উঠবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা পুরনো পথেই হাঁটছে। আমলাতন্ত্র আবার বিষদাঁত বের করে কামড় বসাতে চলেছে।”

পোস্টের শেষাংশে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন:

“আমলাদের এক লাখ টাকার চা খাওয়ানোর জন্যই কি জুলাইতে বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়েছিল?”

তিনি এই ঘুষকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙতেই হবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব, খেলবেন ২০২৭ বিশ্বকাপেও!

স্বাধীন বাংলাদেশে দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা: হাসনাত

আপডেট সময় ১০:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও ভয়ভীতির অভিযোগ এনেছেন নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

হাসনাত বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দিন এসেছে, যখন দুদক চা খাওয়ার বিল হিসেবেও ১ লাখ টাকা দাবি করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ‘ক্লিয়ারেন্স’ দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চিকিৎসক মাহমুদা মিতু-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মিতুকে দুদকের একজন মহাপরিচালক (ডিজি) ও একজন উপপরিচালকের (ডিডি) পরিচয়ে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়।

ফোনে তাকে বলা হয়,
“আপনি তো ডাক্তার, আপনার টাকার অভাব হওয়ার কথা না। আপনি ১ লাখ টাকা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যান।”

হাসনাত আরও লিখেছেন, “যখন মিতু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয়—‘টাকা দিবেন কি না? না দিলে খবর করে ছাড়ব।’”

তিনি দাবি করেন, দুদকের সর্বনিম্ন ঘুষের হার এখন ১ লাখ টাকা, আর এ ঘটনায় মাহমুদা মিতু ফোনালাপ ভিডিও করে রেখেছেন এবং ঘুষ দেননি। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, “কত সাধারণ মানুষ এই ‘চায়ের বিল’ দিয়ে দিয়েছেন, তার কোনো হিসাব নেই।”

হাসনাত আরও বলেন:

“আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—মাহমুদা মিতু কেন, আমার নামেও যদি এক পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, সেটা প্রকাশ করুন। কাউকে ফোন করার দরকার নেই—দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে মামলা দিন। কিন্তু নিরীহ মানুষদের কেন চাঁদাবাজির মুখে ফেলা হচ্ছে?”

তিনি সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আশা করেছিলাম দুদক নতুন রূপে গড়ে উঠবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা পুরনো পথেই হাঁটছে। আমলাতন্ত্র আবার বিষদাঁত বের করে কামড় বসাতে চলেছে।”

পোস্টের শেষাংশে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন:

“আমলাদের এক লাখ টাকার চা খাওয়ানোর জন্যই কি জুলাইতে বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়েছিল?”

তিনি এই ঘুষকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙতেই হবে।”