ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা পুশই’নের শি’কার রোজিনা কাঁদছে,’মা, আমি বাঁচ’ব না। এখানে কোনো খাবার নেই, কিছুই নেই। চারদিকে শুধু তীব্র রোদ পো’ড়া-মা, তুমি কিছু করো…’ বিশ্বকাপে ইরান দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ঘিরে গ্রেপ্তার ৪৭,ওসি ক্লোজড জনরোষ ও পচা ডিম ছোড়ার ভয়ে বৈঠক বাতিল করলেন মমতা নারী-শিশুদের বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ লেবাননের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সদরদপ্তরে ইসরায়েলি হামলা ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ তকমা মুছে ফেলতে চান তামিম লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সম্পদ জব্দ থাকবে: ট্রাম্প

যশোরের জাফরসহ বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে মানবপাচার মামলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

যশোরের জাফর হোসেনসহ একাধিক বাংলাদেশিকে মিথ্যা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) যশোরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন জাফরের ভাই বজলুর রহমান। তিনি যশোর সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় বলা হয়, জাফর হোসেন বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার হয়ে একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছেন। মানবপাচারের অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আতোয়ার রহমান মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সিআইডিকে।

অভিযুক্তরা হলেন:

এসএম আবুল হাসান, চেয়ারম্যান, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (নড়াইল)

ফাবিহা জেরিন তামান্না, তার পার্টনার (ঢাকা, আশকোনা)

আলমগীর হোসেন দেলোয়ার (চট্টগ্রাম, লোহাগড়া)

শফিকুর রহমান, মালিক, ভ্যাকেশন প্লানার (ঢাকা, নয়াপল্টন)

মামলায় অভিযোগ করা হয়, এসএম আবুল হাসান ও ফাবিহা জেরিন তামান্না জাফরকে রাশিয়ায় ক্লিনার বা শেফের সহকারী পদে মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। প্রথমে তাকে সৌদি আরব পাঠানো হয় ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর। সেখানে দুই মাস রাখার পর ২২ ডিসেম্বর রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে নেওয়া হয়।

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর আলমগীর হোসেন দেলোয়ারসহ আরও কিছু ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করে একটি আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যান। বলা হয়, কাজ শুরুর আগে ২০ দিনের ট্রেনিং নিতে হবে। পরে জানা যায়, আসলে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ বছরের জন্য জনপ্রতি ১৪ হাজার ডলারে যুদ্ধচুক্তিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে জাফরসহ অন্যদের বাধ্য হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে হয়।

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, এক যুবক আকরাম হোসেন পালিয়ে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তার মাধ্যমেই পরিবারের সদস্যরা জাফরের অবস্থান ও দুরবস্থার বিষয়ে জানতে পারেন।

বাদীর আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী মো. রেজওয়ান সেতু জানান, এ ঘটনায় মানবপাচার ও প্রতারণার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা

যশোরের জাফরসহ বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে মানবপাচার মামলা

আপডেট সময় ১১:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

যশোরের জাফর হোসেনসহ একাধিক বাংলাদেশিকে মিথ্যা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) যশোরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন জাফরের ভাই বজলুর রহমান। তিনি যশোর সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় বলা হয়, জাফর হোসেন বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার হয়ে একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছেন। মানবপাচারের অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আতোয়ার রহমান মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সিআইডিকে।

অভিযুক্তরা হলেন:

এসএম আবুল হাসান, চেয়ারম্যান, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (নড়াইল)

ফাবিহা জেরিন তামান্না, তার পার্টনার (ঢাকা, আশকোনা)

আলমগীর হোসেন দেলোয়ার (চট্টগ্রাম, লোহাগড়া)

শফিকুর রহমান, মালিক, ভ্যাকেশন প্লানার (ঢাকা, নয়াপল্টন)

মামলায় অভিযোগ করা হয়, এসএম আবুল হাসান ও ফাবিহা জেরিন তামান্না জাফরকে রাশিয়ায় ক্লিনার বা শেফের সহকারী পদে মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। প্রথমে তাকে সৌদি আরব পাঠানো হয় ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর। সেখানে দুই মাস রাখার পর ২২ ডিসেম্বর রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে নেওয়া হয়।

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর আলমগীর হোসেন দেলোয়ারসহ আরও কিছু ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করে একটি আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যান। বলা হয়, কাজ শুরুর আগে ২০ দিনের ট্রেনিং নিতে হবে। পরে জানা যায়, আসলে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ বছরের জন্য জনপ্রতি ১৪ হাজার ডলারে যুদ্ধচুক্তিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে জাফরসহ অন্যদের বাধ্য হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে হয়।

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, এক যুবক আকরাম হোসেন পালিয়ে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তার মাধ্যমেই পরিবারের সদস্যরা জাফরের অবস্থান ও দুরবস্থার বিষয়ে জানতে পারেন।

বাদীর আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী মো. রেজওয়ান সেতু জানান, এ ঘটনায় মানবপাচার ও প্রতারণার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।