যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। দফায় দফায় আলোচনা ভেস্তে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও প্রস্তাব আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে ইসলামাবাদ।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার ইরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তবে তার এই সফর ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি ‘বিশেষ চিঠি’ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তার ওপর দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তেহরানে পৌঁছে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেন নাকভি। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছেন তিনি।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী।
এর আগে শুক্রবার কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করারও দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির দিকে পাঠানো চারটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানানো হয়।
জবাবে ইরানের গারুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা যখন বাড়ছেই, তখন পাকিস্তানের এই বিশেষ বার্তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত নিরসনে নতুন কোনো পথ খুলে দিতে পারে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























