ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল খেলা হারাম নাকি জায়েজ—জানালেন ডা. জাকির নায়েক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। কোটি কোটি মানুষ এই খেলার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ফুটবল খেলা ইসলামে বৈধ কি না—এ প্রশ্ন মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়।

 

এ বিষয়ে নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েক ফুটবল খেলার সাধারণ বিধান এবং পেশাদার ফুটবলের শরিয়তগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

জাকির নায়েক বলেন, সাধারণভাবে এমন কোনো খেলা, যা মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজে প্ররোচিত করে না, তা ইসলামে অনুমোদিত। সেই হিসেবে ফুটবল খেলা নিজেই হারাম নয়।

 

তার ভাষায়, “ফুটবল যদি আপনাকে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজের কারণ না হয়, তবে ফুটবল খেলা হারাম নয়।”

তবে পেশা হিসেবে ফুটবল খেলার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম-এর মতামত তুলে ধরেন।

 

জাকির নায়েক জানান, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তার ফতোয়া গ্রন্থে পেশাদার ফুটবলকে হারাম বলার পক্ষে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের সতর রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা, জামাতে নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি, দলাদলি ও বিরোধের পরিবেশ তৈরি হওয়া, খেলায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সফরের সময় বিভিন্ন হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা।

 

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিমের মতে, পেশাদার ফুটবলের বাস্তবতা ও পরিবেশ বিবেচনায় এসব বিষয় শরিয়তের দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ।

 

তবে এ বিষয়ে আংশিক ভিন্নমত পোষণ করেন ডা. জাকির নায়েক। তিনি বলেন, শায়খের উল্লেখিত অনেক উদ্বেগ বাস্তবসম্মত হলেও সব ধরনের পেশাদার ফুটবলকে এককভাবে হারাম বলা সঠিক নয়।

 

তার মতে, বিশ্বকাপ বা ইউরোপীয় শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মতো উচ্চস্তরের পেশাদার ফুটবলের ক্ষেত্রে এসব আপত্তির অনেকগুলো প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু সব পর্যায়ের ফুটবলকে একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়।

 

জাকির নায়েকের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি ইসলামের বিধান মেনে চলতে পারেন, নামাজ ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন অবহেলা না করেন এবং হারাম কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, তাহলে ফুটবল খেলা বা এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল খেলা হারাম নাকি জায়েজ—জানালেন ডা. জাকির নায়েক

আপডেট সময় ১০:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। কোটি কোটি মানুষ এই খেলার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ফুটবল খেলা ইসলামে বৈধ কি না—এ প্রশ্ন মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়।

 

এ বিষয়ে নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েক ফুটবল খেলার সাধারণ বিধান এবং পেশাদার ফুটবলের শরিয়তগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

জাকির নায়েক বলেন, সাধারণভাবে এমন কোনো খেলা, যা মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজে প্ররোচিত করে না, তা ইসলামে অনুমোদিত। সেই হিসেবে ফুটবল খেলা নিজেই হারাম নয়।

 

তার ভাষায়, “ফুটবল যদি আপনাকে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজের কারণ না হয়, তবে ফুটবল খেলা হারাম নয়।”

তবে পেশা হিসেবে ফুটবল খেলার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম-এর মতামত তুলে ধরেন।

 

জাকির নায়েক জানান, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তার ফতোয়া গ্রন্থে পেশাদার ফুটবলকে হারাম বলার পক্ষে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের সতর রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা, জামাতে নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি, দলাদলি ও বিরোধের পরিবেশ তৈরি হওয়া, খেলায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সফরের সময় বিভিন্ন হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা।

 

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিমের মতে, পেশাদার ফুটবলের বাস্তবতা ও পরিবেশ বিবেচনায় এসব বিষয় শরিয়তের দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ।

 

তবে এ বিষয়ে আংশিক ভিন্নমত পোষণ করেন ডা. জাকির নায়েক। তিনি বলেন, শায়খের উল্লেখিত অনেক উদ্বেগ বাস্তবসম্মত হলেও সব ধরনের পেশাদার ফুটবলকে এককভাবে হারাম বলা সঠিক নয়।

 

তার মতে, বিশ্বকাপ বা ইউরোপীয় শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মতো উচ্চস্তরের পেশাদার ফুটবলের ক্ষেত্রে এসব আপত্তির অনেকগুলো প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু সব পর্যায়ের ফুটবলকে একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়।

 

জাকির নায়েকের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি ইসলামের বিধান মেনে চলতে পারেন, নামাজ ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন অবহেলা না করেন এবং হারাম কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, তাহলে ফুটবল খেলা বা এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।