ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা এবারও হাত মেলাননি বাংলাদেশ-ভারতের অধিনায়কেরা ফুটবল খেলা হারাম নাকি জায়েজ—জানালেন ডা. জাকির নায়েক সর্বোচ্চ যাকাত সংগ্রহে প্রথম হয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক বিশ্বকাপের মাঝেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ফ্রান্সের ফুটবলার জ্বলছে রাশিয়া, হাতছাড়া হলো দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবক নিহত ১ টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ থেকে ইস্তফা দেব: হাসনাত আবদুল্লাহ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির ৩ বিচারক

জ্বলছে রাশিয়া, হাতছাড়া হলো দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। একই সময়ে দেশটির দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিনবার্ন স্পিট এলাকায় রুশ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন চাপের মুখে পড়েছে মস্কো।

 

 

রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) রাতভর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ক্রাসনোআর্মেইস্কি জেলার পলতাভস্কায়া তেল ডিপো থেকে আগুনের বিশাল শিখা বের হতে দেখা যায়।

 

জেলার প্রধান আলেকজান্ডার খারলিতোনভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। স্বাধীনভাবে হামলার দাবিও যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

 

তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন নিয়মিতভাবে ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নের অন্যতম উৎস তেল খাতকে দুর্বল করতেই চালানো হচ্ছে এসব হামলা।

 

এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা কিনবার্ন স্পিট এলাকা থেকে সরে যেতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘তীব্র গোলাবর্ষণের’ মুখে রুশ সেনারা পিছু হটেছে। অঞ্চলটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথাও জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা।

 

মাইকোলাইভ অঞ্চলে অবস্থিত কিনবার্ন স্পিট একটি দীর্ঘ বালুকাময় উপদ্বীপ, যা ডনিপ্রো-বুহ মোহনা ও কৃষ্ণসাগরের মাঝখানে অবস্থিত। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অঞ্চলটি ২০২২ সালের মার্চে খেরসন অঞ্চলের দখলকৃত অংশ থেকে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণে নেয় রুশ বাহিনী।

অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখান থেকে কৃষ্ণসাগরের বিভিন্ন নৌপথ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করা সম্ভব। খেরসন ও মাইকোলাইভ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটও এই এলাকার কাছ দিয়ে গেছে।

 

এদিকে একই সময়ে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের বিপরীতে অবস্থিত রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

 

রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে ধারাবাহিক হামলা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

জ্বলছে রাশিয়া, হাতছাড়া হলো দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল

আপডেট সময় ০৯:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। একই সময়ে দেশটির দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিনবার্ন স্পিট এলাকায় রুশ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন চাপের মুখে পড়েছে মস্কো।

 

 

রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) রাতভর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ক্রাসনোআর্মেইস্কি জেলার পলতাভস্কায়া তেল ডিপো থেকে আগুনের বিশাল শিখা বের হতে দেখা যায়।

 

জেলার প্রধান আলেকজান্ডার খারলিতোনভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। স্বাধীনভাবে হামলার দাবিও যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

 

তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন নিয়মিতভাবে ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নের অন্যতম উৎস তেল খাতকে দুর্বল করতেই চালানো হচ্ছে এসব হামলা।

 

এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা কিনবার্ন স্পিট এলাকা থেকে সরে যেতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘তীব্র গোলাবর্ষণের’ মুখে রুশ সেনারা পিছু হটেছে। অঞ্চলটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথাও জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা।

 

মাইকোলাইভ অঞ্চলে অবস্থিত কিনবার্ন স্পিট একটি দীর্ঘ বালুকাময় উপদ্বীপ, যা ডনিপ্রো-বুহ মোহনা ও কৃষ্ণসাগরের মাঝখানে অবস্থিত। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অঞ্চলটি ২০২২ সালের মার্চে খেরসন অঞ্চলের দখলকৃত অংশ থেকে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণে নেয় রুশ বাহিনী।

অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখান থেকে কৃষ্ণসাগরের বিভিন্ন নৌপথ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করা সম্ভব। খেরসন ও মাইকোলাইভ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটও এই এলাকার কাছ দিয়ে গেছে।

 

এদিকে একই সময়ে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের বিপরীতে অবস্থিত রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

 

রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে ধারাবাহিক হামলা।