ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

নরসিংদী শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের, তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ না দেওয়ায় দোকান কর্মচারীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জেলা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নরসিংদীর সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং রাহাজানির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি তোলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মদের দোকানে তালা লাগিয়ে দেন নরসিংদী জেলা যুবদল সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন। মদ না দেওয়ায় তারা দোকানের কাউন্টারের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বিকে (৩০) প্রকাশ্যে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাব্বির মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকার ও কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস (৩০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মদের দোকানের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। মদের নেশায় মত্ত হয়ে যুবসমাজ চুরি, ছিনতাই এবং রাহাজানির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে শহরের মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া ১৯৯৯ সালে ৭ মে নরসিংদীর এই একই মদের দোকানে বিষাক্ত মদপানের ফলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় ৯৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৯৫ বা ৯৬ জন বলা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন চিকিৎসালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১১৭ জন ছাড়িয়ে যায়।

 

এছাড়া ওই সময় স্থায়ীভাবে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ববরণ করেছিলেন একাধিক ব্যক্তি। মদের সাথে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক মিথানল বা রেক্টিফাইড স্পিরিট মেশানোর কারণে এই গণ-বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির পর সারাদেশে হৈচৈ পড়ে যায়। এতো প্রাণহানির পরও কীভাবে শহরের জনবহুল এলাকায় এমন একটি মদের দোকান বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। শহরের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে এই মদের দোকানটি চিরতরে উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নরসিংদীর সাধারণ মানুষ।

নরসিংদী জেলা যুবদল সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, অবাধ এই মাদকের জন্য শহরে চুরি, ছিনতাই এবং রাহাজানির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। নেশার জন্য প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য দেশে হতে পারে না। তাছাড়া নরসিংদী সরকারি কলেজসহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতি সন্নিকটে রমরমা এই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলে দেশের আগামী প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থীরা বিপথে চলে যেতে পারে। তাই অপরাধ বন্ধে শহরে মদের দোকান বন্ধের জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে কথা বলতে দেশীয় মদের দোকানের মালিক রুবেল মিয়া এবং তার ম্যানেজার হাসেম মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মদের দোকানকে কেন্দ্র করে যদি আইনশৃংখলার অবনতি ঘটে বা চুরি ছিনতাই বেড়ে যায় তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। তবে যেহেতু এই দোকানটির লাইসেন্স সরকারের একটি ভিন্ন দপ্তর ইস্যু করেছে, তাই স্থানান্তর বা বন্ধে বিষয়টি সেই দপ্তরেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

নরসিংদী শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের, তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল

আপডেট সময় ১০:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ না দেওয়ায় দোকান কর্মচারীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জেলা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নরসিংদীর সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং রাহাজানির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি তোলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মদের দোকানে তালা লাগিয়ে দেন নরসিংদী জেলা যুবদল সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন। মদ না দেওয়ায় তারা দোকানের কাউন্টারের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বিকে (৩০) প্রকাশ্যে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাব্বির মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকার ও কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস (৩০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মদের দোকানের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। মদের নেশায় মত্ত হয়ে যুবসমাজ চুরি, ছিনতাই এবং রাহাজানির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে শহরের মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া ১৯৯৯ সালে ৭ মে নরসিংদীর এই একই মদের দোকানে বিষাক্ত মদপানের ফলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় ৯৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৯৫ বা ৯৬ জন বলা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন চিকিৎসালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১১৭ জন ছাড়িয়ে যায়।

 

এছাড়া ওই সময় স্থায়ীভাবে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ববরণ করেছিলেন একাধিক ব্যক্তি। মদের সাথে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক মিথানল বা রেক্টিফাইড স্পিরিট মেশানোর কারণে এই গণ-বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির পর সারাদেশে হৈচৈ পড়ে যায়। এতো প্রাণহানির পরও কীভাবে শহরের জনবহুল এলাকায় এমন একটি মদের দোকান বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। শহরের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে এই মদের দোকানটি চিরতরে উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নরসিংদীর সাধারণ মানুষ।

নরসিংদী জেলা যুবদল সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, অবাধ এই মাদকের জন্য শহরে চুরি, ছিনতাই এবং রাহাজানির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। নেশার জন্য প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। তা একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য দেশে হতে পারে না। তাছাড়া নরসিংদী সরকারি কলেজসহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতি সন্নিকটে রমরমা এই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলে দেশের আগামী প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থীরা বিপথে চলে যেতে পারে। তাই অপরাধ বন্ধে শহরে মদের দোকান বন্ধের জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে কথা বলতে দেশীয় মদের দোকানের মালিক রুবেল মিয়া এবং তার ম্যানেজার হাসেম মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মদের দোকানকে কেন্দ্র করে যদি আইনশৃংখলার অবনতি ঘটে বা চুরি ছিনতাই বেড়ে যায় তাহলে আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। তবে যেহেতু এই দোকানটির লাইসেন্স সরকারের একটি ভিন্ন দপ্তর ইস্যু করেছে, তাই স্থানান্তর বা বন্ধে বিষয়টি সেই দপ্তরেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।