ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা জন্মদিনের দিনই ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘনীভূত বিমানবন্দর লোডারের মৃত্যুতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি আবারও আ. লীগের ফাঁদে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানা গড়তে চায় তুরস্ক তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনে মার্কিন নৌবহরকে সতর্কবার্তা দিল ইরান লালমনিরহাটের তিন সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম, টালমাটাল তৃণমূলে নতুন ধাক্কা

বিএনপি নেতার ভাইয়ের গুদাম থেকে মজুদ করা ২ হাজার বস্তা সার জব্দ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩১২ বার পড়া হয়েছে

এবার অবৈধভাবে মজুদ করা বিভিন্ন প্রকারের ২ হাজার ১৫১ বস্তা সার জব্দ করেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট বাজারে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষীরহাট বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স শিখা মনি ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। শুরুতে সার মজুদের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সেনা সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দুটি পৃথক গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ২৬৮ বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৬৩ বস্তা এমওপি, ১০০ বস্তা টিএসপি (ফসফেট) এবং ৪২০ বস্তা ভ্যাব সার উদ্ধার করা হয়। লক্ষীরহাট বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তিনটি গোডাউনে এসব সার মজুদ করা হয়। জব্দ সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক সহিদুল ইসলাম বাবুলকে অবৈধভাবে সার মজুদ করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এর ধারা ১২ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। সেই সাথে জব্দকৃত সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে সমুদয় টাকা সহিদুল ইসলামকে প্রদান করার আদেশ দেন। এছাড়া অভিযুক্তের নিজস্ব জমিতে ব্যবহারের জন্য জব্দকৃত সার থেকে ২৪০ বস্তা সার তাকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে লাইসেন্স ছাড়া একজন ব্যক্তির কাছে এত বিপুল পরিমাণ সার মজুদ থাকার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ সার জব্দের পর জব্দকৃত সার বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা না দিয়ে উল্টো অভিযুক্তকে দেয়া এবং সামান্য জরিমানা করায় আইন প্রয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। এভাবে সামান্য জরিমানা দিলে অবৈধ মজুদদাররা আরও উৎসাহ পাবে। কৃষকেরা উচ্চমূল্যে সার কিনতে বাধ্য হন, আর প্রশাসনের নজরদারি থাকে দুর্বল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, কিছুদিন আগে সার সংকটে কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। অথচ আজ এত সার উদ্ধার হওয়ার পরও মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা-এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেয় সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা

বিএনপি নেতার ভাইয়ের গুদাম থেকে মজুদ করা ২ হাজার বস্তা সার জব্দ

আপডেট সময় ০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

এবার অবৈধভাবে মজুদ করা বিভিন্ন প্রকারের ২ হাজার ১৫১ বস্তা সার জব্দ করেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট বাজারে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষীরহাট বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স শিখা মনি ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। শুরুতে সার মজুদের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সেনা সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দুটি পৃথক গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ২৬৮ বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৬৩ বস্তা এমওপি, ১০০ বস্তা টিএসপি (ফসফেট) এবং ৪২০ বস্তা ভ্যাব সার উদ্ধার করা হয়। লক্ষীরহাট বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তিনটি গোডাউনে এসব সার মজুদ করা হয়। জব্দ সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক সহিদুল ইসলাম বাবুলকে অবৈধভাবে সার মজুদ করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এর ধারা ১২ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। সেই সাথে জব্দকৃত সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে সমুদয় টাকা সহিদুল ইসলামকে প্রদান করার আদেশ দেন। এছাড়া অভিযুক্তের নিজস্ব জমিতে ব্যবহারের জন্য জব্দকৃত সার থেকে ২৪০ বস্তা সার তাকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে লাইসেন্স ছাড়া একজন ব্যক্তির কাছে এত বিপুল পরিমাণ সার মজুদ থাকার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ সার জব্দের পর জব্দকৃত সার বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা না দিয়ে উল্টো অভিযুক্তকে দেয়া এবং সামান্য জরিমানা করায় আইন প্রয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। এভাবে সামান্য জরিমানা দিলে অবৈধ মজুদদাররা আরও উৎসাহ পাবে। কৃষকেরা উচ্চমূল্যে সার কিনতে বাধ্য হন, আর প্রশাসনের নজরদারি থাকে দুর্বল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, কিছুদিন আগে সার সংকটে কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। অথচ আজ এত সার উদ্ধার হওয়ার পরও মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা-এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেয় সম্ভব হয়নি।