ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ব্যবস্থা, হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ছাত্রশিবিরের বিগত ১৬ বছরে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা ডাকাতি হয়েছে: সারজিস ইসরাইলি বাহিনীর ঘুম হারাম করছে হিজবুল্লাহর ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’ ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার চাঁদা লাগলে চাঁদা নে, নতুন করে কমিটি দে’, পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের স্লোগান জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই সরকার: প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো শক্তি নেই যা ইরানের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারে: আইআরজিসি ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না: আখতার হোসেন

সবচেয়ে বেশি সময় ধরে নির্বাসিত থাকা রেকর্ডে সবার ওপরে তারেক রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম নির্বাসিত জীবন কাটানো শীর্ষ নেতা হিসেবে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর লন্ডনে প্রবাস জীবন শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফেরার আগমুহূর্তে বিমানে বসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন— ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!’
২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। এরপর টানা প্রায় ১৮ বছর তাকে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে ফিরলেন।
বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে তারেক রহমান একা নন—নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন আরও অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার রাজনৈতিক জীবনে দুই দফায় সাত বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছে। প্রথম দফায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জার্মানিতে ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর নির্বাসনে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফেরেন। দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং নাগরিকত্ব বাতিলের কারণে প্রায় সাত বছর বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানে চলে যান এবং পরে মধ্যপ্রাচ্য ও লন্ডনে অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে ভিজিটর ভিসায় দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে ভারতে নির্বাসনে যান। প্রায় ১৫ বছর পর ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে আসেন তিনি।
এ ছাড়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ ২০১৫ সালে ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ভারতের মেঘালয়ে পাওয়া যান। পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে প্রবেশের মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৯ বছর ৮ মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দেশে ফেরেন।
এসব উদাহরণ প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে দীর্ঘতম প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা শীর্ষ নেতাদের তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ব্যবস্থা, হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

সবচেয়ে বেশি সময় ধরে নির্বাসিত থাকা রেকর্ডে সবার ওপরে তারেক রহমান

আপডেট সময় ১০:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম নির্বাসিত জীবন কাটানো শীর্ষ নেতা হিসেবে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর লন্ডনে প্রবাস জীবন শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফেরার আগমুহূর্তে বিমানে বসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন— ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!’
২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। এরপর টানা প্রায় ১৮ বছর তাকে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে ফিরলেন।
বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে তারেক রহমান একা নন—নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন আরও অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার রাজনৈতিক জীবনে দুই দফায় সাত বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছে। প্রথম দফায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জার্মানিতে ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর নির্বাসনে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফেরেন। দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং নাগরিকত্ব বাতিলের কারণে প্রায় সাত বছর বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানে চলে যান এবং পরে মধ্যপ্রাচ্য ও লন্ডনে অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে ভিজিটর ভিসায় দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে ভারতে নির্বাসনে যান। প্রায় ১৫ বছর পর ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে আসেন তিনি।
এ ছাড়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ ২০১৫ সালে ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ভারতের মেঘালয়ে পাওয়া যান। পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে প্রবেশের মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৯ বছর ৮ মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দেশে ফেরেন।
এসব উদাহরণ প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে দীর্ঘতম প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা শীর্ষ নেতাদের তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।