সাতক্ষীরা জেলার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি–জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জেলার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনের চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। নতুন সীমানা নির্ধারণ বিএনপির জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন সম্ভাবনাও।
এই আসনটি জামায়াতের শক্তিশালী ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল আলম। সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী, দেবহাটা উপজেলা বাদ দিয়ে আশাশুনি ও কালিগঞ্জের মোট ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসন পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে দলের পুরোনো সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন।
ধানের শীষের মনোনয়নের দৌড়ে ডা. শহিদুল আলম ছাড়াও রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা মির্জা ইয়াছিন আলী।
ঢাকায় চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততা সামলে প্রতিনিয়ত নিজ জেলার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান ডা. শহিদুল। নলতায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং জটিল রোগীদের ভর্তি করাসহ নানা মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
নলতার বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, “শহিদুল ডাক্তার বিনা টাকায় দেখে দেন। অনেক সময় ওষুধও দেন। তার মতো মানুষ এখন আর দেখা যায় না।”
বিএনপি নেতাকর্মীরাও মনে করছেন, এই আসনে জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তারই। আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের নেতা জাকির হোসেন বলেন, “শহিদুল ডাক্তার হলে নিরপেক্ষ ও ভিন্নমতের ভোটও আসবে বিএনপির দিকে।”
স্থানীয় তরুণ সমাজকর্মী সোহেল হোসেন বলেন, “তিনি এমপি হলে জেলার স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাতক্ষীরা-৩ আসনে বহুদিনের ভোট সমীকরণ বদলে যেতে পারে। জামায়াতের ভোটেও পড়তে পারে প্রভাব।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ডা. শহিদুল আলম বলেন, “রাজনীতি মানুষের বিশ্বাসে হয়। আশাশুনি ও কালিগঞ্জের মানুষ আমাকে ভালোবাসে। যদি দল মনোনয়ন দেয়—আমি বিশ্বাস করি, ইনশাল্লাহ জয় আসবেই।”

