ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

পদ্মায় বাসডুবিতে রানা প্লাজার সেই নাসিমার মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

পদ্মায় বাসডুবিতে রানা প্লাজার সেই নাসিমার মৃত্যু

২০১৩ সালে ভয়াবহ রানা প্লাজার ট্র্যাজেডিতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা নাসিমা বেগম। তবে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় থেমে গেছে তার জীবন-লড়াই। দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

জানা গেছে, পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি। পরে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

ঈদ শেষে গত বুধবার বিকালে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছলে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে তারা সবাই ডুবে যান।

 

কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়।

 

তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়।

 

নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিনদিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

 

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি।

 

এদিকে পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

 

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

পদ্মায় বাসডুবিতে রানা প্লাজার সেই নাসিমার মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:৩০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পদ্মায় বাসডুবিতে রানা প্লাজার সেই নাসিমার মৃত্যু

২০১৩ সালে ভয়াবহ রানা প্লাজার ট্র্যাজেডিতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা নাসিমা বেগম। তবে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় থেমে গেছে তার জীবন-লড়াই। দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

জানা গেছে, পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি। পরে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

ঈদ শেষে গত বুধবার বিকালে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছলে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে তারা সবাই ডুবে যান।

 

কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়।

 

তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়।

 

নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিনদিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

 

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি।

 

এদিকে পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।