দিল্লির মন্ত্রী পরবেশ ভার্মা বাঁ হাতে এক তরুণের মোবাইল ফোন নিচে নামিয়ে দেন, যখন ওই তরুণ তাকে ভিডিও করছিলেন। এরপর ডান হাত দিয়ে তার মুখে চড় মারেন। একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এরপর দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তবে তখনই এক নিরাপত্তাকর্মী তাদের দুজনের মাঝখানে ঢুকে পড়েন। এ সময় তাদের ঘিরে কয়েকজন মানুষও ছিলেন।
পশ্চিম দিল্লির তিলক নগরে একটি সড়ক পরিদর্শনে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরবেশ ভার্মা দিল্লির গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) মন্ত্রী।
ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই, মার কাইসে রহা হ্যায়?’ (কীভাবে মারছেন?)
আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আরে, মার দিয়া থাপ্পড়, ভাই। ভাই, থাপ্পড় মার দিয়া জি। ইয়ে লো জি, ভিডিও বানাতে হুয়ে থাপ্পড় মার দিয়া।’ (আরে, তিনি চড় মেরেছেন ভাই। ভাই, সত্যিই চড় মেরেছেন। এই দেখুন, ভিডিও করার সময় চড় মেরেছেন।)
ভিড়ের আরেকজন বলেন, ‘আম আদমি কো কোই থাপ্পড় নেহি মার সকতা।’ (সাধারণ মানুষকে কেউ চড় মারতে পারে না।)
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগে দিল্লির মন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির তিলক নগরের বিধায়ক জারনাইল সিং সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে একে অপরকে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছিলেন।
আপ বিধায়ক সড়কের পিচ এমনভাবে টেনে তুললেন, যেন মৃত চামড়া খসিয়ে ফেলা হচ্ছে। অনায়াসেই উঠে এলো পাকা সড়কের বড় অংশ।
বিধায়ক হাতে সড়কের বড় বড় অংশ তুলে ধরে বলেন, ‘এই দেখুন, মন্ত্রীজি, আপনি আমাদের জিজ্ঞেস করুন। এতে খারাপ লাগার কিছু নেই। এই কাজ বিজেপির সরকারের আমলে হচ্ছে। আপনারা আমাদের ভিডিও ডিলিট করিয়ে দিচ্ছেন।’
ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘নারাজ ফুফা বন কে আ রহে হ্যায়।’ (অভিমানী শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়ের মতো করে আসছেন।) এ মন্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের উদ্দেশে বিজেপির করা কটাক্ষেরই পাল্টা জবাব দেয়া হয়।
মন্ত্রীকে জারনাইল সিং বলেন, ‘আপনি যে সড়কটির কথা বলেছিলেন, সেটা তুলে দেখিয়ে দিয়েছি। এখন বলুন।’
মন্ত্রী আপ বিধায়কের কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘ভুল কথা বলবেন না।’
আপ বিধায়ক পাল্টা বলেন, ‘আমি কী ভুল বলেছি?’
মন্ত্রী বলেন, ‘একেবারেই ভুল বলেছেন। ১৫ বছরে আপনি সড়ক বানাননি, এখন আমরা বানাচ্ছি।’
আপ বিধায়ক বলেন, ‘এভাবে বানাবেন না। এটা তো ১৫ ঘণ্টাও টিকবে না।’
এ পর্যায়ে মন্ত্রী ঘুরে দাঁড়িয়ে চলে যেতে শুরু করেন।
হাতে সড়কের বড় বড় অংশ নিয়ে আপ বিধায়ক আবারও মন্ত্রীর কাছে এগিয়ে যান। এ সময় সাহিব সিং নামে এক ব্যক্তি, যিনি ওই আপ নেতার ব্যক্তিগত সহকারী, সামনে থেকে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।
দুজন হাঁটতে শুরু করলে মন্ত্রী রেগে যান এবং ভিডিও ধারণ করা সাহিব সিংকে চড় মারেন।
‘এটি ভারতের রাজধানী দিল্লির বিজেপি সরকারের গণপূর্ত বিভাগের মন্ত্রী। তিনি সড়ক পরিদর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে দেখে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত ভিডিও ধারণ করা আমার সহকর্মীর সঙ্গে গুন্ডামিতে জড়িয়ে পড়েন,’ বলেন আপ বিধায়ক।
আপ বিধায়কের ভিডিওটি শেয়ার করে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আপ বিধায়ক ও পরবেশ ভার্মার কথোপকথন লাইভে প্রচার করার সময় কীভাবে তাকে চড় মারা হয়, সেটিও তিনি বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘সে সময় আমি বিধায়কের পেজে লাইভ করছিলাম। চলমান লাইভ বন্ধ করতে পরবেশ ভার্মা আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেন, আমার দিকে হাত তোলেন এবং আমাকে চড় মারেন। তার নিরাপত্তাকর্মীরাও আমাকে ধাক্কা দেন এবং আমার দিকে হাত তোলেন। আমি তাকে কিছু বলিনি বা তার সঙ্গে কোনো কিছু করিনি। এমন কোনো কাজ আমি করিনি, যার কারণে তিনি আমাকে মারবেন। আমি অভিযোগ দায়ের করেছি। তার সঙ্গে থাকা লোকজনও আমাকে হুমকি দিয়েছেন, তাদের নামও আমি জানিয়েছি। এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়, কারণ তিনি দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দিল্লির মন্ত্রী বলেন, আপ বিধায়কের সহকারী তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেছিলেন এবং এ কারণেই তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান।
ভার্মা বলেন, ‘জারনেইল সিং তার কর্মীদের নিয়ে সেখানে আসেন এবং এসেই দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তার এক কর্মী সেখানে আসার পরপরই আমার পরিবারকে গালাগাল করতে শুরু করেন। ওই মুহূর্তে রাগের মাথায় যে কেউ আমার মতোই প্রতিক্রিয়া দেখাতেন।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















