ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার চাঁদা লাগলে চাঁদা নে, নতুন করে কমিটি দে’, পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের স্লোগান জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই সরকার: প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো শক্তি নেই যা ইরানের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারে: আইআরজিসি ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না: আখতার হোসেন আফ্রিকা সফরে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ বলল চীন ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না: আখতার হোসেন ইরানকে চাপে রাখতে এবার হরমুজে মার্কিন ‘এসকর্ট’ মিশন আমাদের লড়াই চলবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ঋণখেলাপি না হতে চেনাজানা মানুষের কাছে ৩৬ কোটি টাকা চাইলেন মান্না

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার ৩৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের কারণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এমন পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি না হতে চেনাজানা মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মান্না এ কথা জানান। এ সময় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ২০০৭–০৮ সালের দিকে নিজ এলাকায় ঋণ নিয়ে একটি হিমাগার করেছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তিনি জেলে যান। সে সময় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি গ্রেপ্তারের পর ওই ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার এর এমডি হয়ে যান।

মান্না বলেন, ১০-১২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, যা এখন ৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৫ আগস্টের পর ওই এমডির নামে হত্যা মামলা, মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে। এ জন্য তিনি স্ত্রীসহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ঋণখেলাপি থেকে বাঁচতে হলে ওই এমডিকে আদালতে হাজির করতে হবে। তবে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

মাহমুদুর রহমান মান্না ঋণ পুনঃ তফসিলের আবেদন করেছিলেন জানিয়ে বলেন, আদালতে গেলে তাঁর পক্ষে আদেশ এসেছে, যাতে তাঁর নামটি খেলাপির তালিকায় না থাকে। কিন্তু দুপুরে দেওয়া ওই আদেশ সন্ধ্যায় স্থগিত করা হয়েছে। একটি শ্রেণি সেটি আটকে দিয়েছে, যাতে তিনি নির্বাচন করতে না পারেন। বগুড়ায় বিএনপির স্থানীয় সভাপতি একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। তিনি তাঁর প্রভাব দলগতভাবে ব্যবহার করছেন। দলের একটি অংশ আদালতেও সেই প্রভাব ব্যবহার করছে। অভ্যুত্থানের পর বিচারব্যবস্থা এখনো প্রভাবিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, তিনি আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। এর মধ্যে নির্বাচনী মনোনয়ন ফরমও জমা দিতে হবে। তাই তিনি চাচ্ছেন, সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে ঋণখেলাপিদের তথ্য সংরক্ষণ) যাতে স্থগিত করা হয়। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তাঁর নাম যেন বাদ রাখা হয়। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে চেম্বার আদালতে গিয়েছেন জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজ রোববার একটি রায় হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। রায় যদি তাঁর অনুকূলে না আসে, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে সবদিক বিবেচনায় রায় তাঁর পক্ষে আসা উচিত বলে মনে করেন মান্না। তিনি বলেন, যাঁরা তাঁকে জানেন, ভালোবাসেন, সেই বিশ্বাস থেকে কেউ যদি এই টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে চান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ঋণখেলাপি না হতে চেনাজানা মানুষের কাছে ৩৬ কোটি টাকা চাইলেন মান্না

আপডেট সময় ০৯:৪২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার ৩৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের কারণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এমন পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি না হতে চেনাজানা মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মান্না এ কথা জানান। এ সময় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ২০০৭–০৮ সালের দিকে নিজ এলাকায় ঋণ নিয়ে একটি হিমাগার করেছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তিনি জেলে যান। সে সময় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি গ্রেপ্তারের পর ওই ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার এর এমডি হয়ে যান।

মান্না বলেন, ১০-১২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, যা এখন ৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৫ আগস্টের পর ওই এমডির নামে হত্যা মামলা, মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে। এ জন্য তিনি স্ত্রীসহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ঋণখেলাপি থেকে বাঁচতে হলে ওই এমডিকে আদালতে হাজির করতে হবে। তবে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

মাহমুদুর রহমান মান্না ঋণ পুনঃ তফসিলের আবেদন করেছিলেন জানিয়ে বলেন, আদালতে গেলে তাঁর পক্ষে আদেশ এসেছে, যাতে তাঁর নামটি খেলাপির তালিকায় না থাকে। কিন্তু দুপুরে দেওয়া ওই আদেশ সন্ধ্যায় স্থগিত করা হয়েছে। একটি শ্রেণি সেটি আটকে দিয়েছে, যাতে তিনি নির্বাচন করতে না পারেন। বগুড়ায় বিএনপির স্থানীয় সভাপতি একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। তিনি তাঁর প্রভাব দলগতভাবে ব্যবহার করছেন। দলের একটি অংশ আদালতেও সেই প্রভাব ব্যবহার করছে। অভ্যুত্থানের পর বিচারব্যবস্থা এখনো প্রভাবিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, তিনি আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। এর মধ্যে নির্বাচনী মনোনয়ন ফরমও জমা দিতে হবে। তাই তিনি চাচ্ছেন, সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে ঋণখেলাপিদের তথ্য সংরক্ষণ) যাতে স্থগিত করা হয়। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তাঁর নাম যেন বাদ রাখা হয়। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে চেম্বার আদালতে গিয়েছেন জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজ রোববার একটি রায় হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। রায় যদি তাঁর অনুকূলে না আসে, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে সবদিক বিবেচনায় রায় তাঁর পক্ষে আসা উচিত বলে মনে করেন মান্না। তিনি বলেন, যাঁরা তাঁকে জানেন, ভালোবাসেন, সেই বিশ্বাস থেকে কেউ যদি এই টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে চান।