ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবের রাস্তায় নেমে এল হাজার হাজার মানুষ ২ মাসের মধ্যে তেল শোধন ক্ষমতা ৮০ শতাংশে ফেরাতে চায় ইরান জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজির মাধ্যমে সংসদে যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি: জামায়াতে আমির এসএসসি পরীক্ষার হল পরিদর্শনে এমপিরা যেতে পারবেন না: শিক্ষামন্ত্রী জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে কোনো দলের ব্যানারে দেখতে চাই না: সারজিস আলোচনা ব্যর্থ: পাকিস্তান ছাড়লো ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্বেষের কথা আমরা ভুলব না: ইরান সরকারের সিদ্ধান্তেই ইন্টারনেট বন্ধ হয়: জয়-পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আইএসপিএবি সভাপতি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, ট্রাম্প তখন কুস্তি খেলা দেখছিলেন

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই পরীক্ষাকে কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে কিম জং উন দেশটিকে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিকরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনেরজন্য দায়ী বলেও মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিম জং উন একটি উন্নত সলিডফুয়েল ইঞ্জিনের গ্রাউন্ড জেট পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই ইঞ্জিনে কম্পোজিট কার্বন ফাইবার উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা আগের পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৯৭১ কিলোটন ক্ষমতার ইঞ্জিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইঞ্জিনের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। যদিও পরীক্ষাটি কোথায় পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, এই পরীক্ষা তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কর্মসূচির অংশ। এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন কৌশলগত হামলা সক্ষমতা তৈরি করা, যার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হবে। কেসিএনএ এই পরীক্ষাকে দেশের সামরিক শক্তিকেসর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণবলে উল্লেখ করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া একাধিক আইসিবিএম পরীক্ষা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করে। বিশেষ করে সলিডফুয়েল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয় এবং তা আগাম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি কার্যকর আইসিবিএম পুরোপুরি প্রস্তুত করতে উত্তর কোরিয়াকে এখনও কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ারহেডকে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময়ের তীব্র তাপ ও চাপ সহ্য করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা। যদিও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করার কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দেশটি এই সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পএর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক পার্টি কংগ্রেসে কিম আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখলেও, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

আপডেট সময় ০১:৩৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই পরীক্ষাকে কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে কিম জং উন দেশটিকে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিকরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনেরজন্য দায়ী বলেও মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিম জং উন একটি উন্নত সলিডফুয়েল ইঞ্জিনের গ্রাউন্ড জেট পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই ইঞ্জিনে কম্পোজিট কার্বন ফাইবার উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা আগের পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৯৭১ কিলোটন ক্ষমতার ইঞ্জিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইঞ্জিনের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। যদিও পরীক্ষাটি কোথায় পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, এই পরীক্ষা তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কর্মসূচির অংশ। এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন কৌশলগত হামলা সক্ষমতা তৈরি করা, যার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হবে। কেসিএনএ এই পরীক্ষাকে দেশের সামরিক শক্তিকেসর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণবলে উল্লেখ করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া একাধিক আইসিবিএম পরীক্ষা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করে। বিশেষ করে সলিডফুয়েল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয় এবং তা আগাম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি কার্যকর আইসিবিএম পুরোপুরি প্রস্তুত করতে উত্তর কোরিয়াকে এখনও কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ারহেডকে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময়ের তীব্র তাপ ও চাপ সহ্য করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা। যদিও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করার কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দেশটি এই সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পএর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক পার্টি কংগ্রেসে কিম আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখলেও, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।