ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলো: রাশেদ খাঁন পাগলা মসজিদে ৩ ঘণ্টায় মিলল ১০ কোটি টাকা, এখনো চলছে গণনা বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্স! আয়োজকরা চায় আমরা বাদ পড়ি: ইরানের অধিনায়ক নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে বাচ্চা রেখে চলে গেল ‘কাশ্মিরি’ পরিবার ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা বাজেট নিয়ে এবার ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি : জয়নুল আবদীন চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয়: ডা. শফিকুর রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

যেভাবে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘একঘরে’ করার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক কৌশল এখন উল্টো ফল দিচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

 

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় অবস্থানে চলে গেছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে এক জনসভায় মোদি বলেছিলেন, পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে ‘একঘরে’ করবে ভারত। কিন্তু এক দশক পর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন চীনসহ একাধিক শক্তিশালী দেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক পুনরায় উন্নত করেছে।

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ চুক্তিও করেছে।

 

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা থাকলেও বাস্তবে দেশটি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

 

বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারতের পাকিস্তানবিরোধী কৌশল ‘অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ’ হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান নিজের অবস্থান শক্ত করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ও তথ্যযুদ্ধেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। তবে তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি।

 

এদিকে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক অগ্রগতির পেছনে চীনের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে ‘জঙ্গিবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না’ নীতি অনুসরণ করে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখেছে। তবে এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কৌশলগত অবস্থান শক্ত করছে। অন্যদিকে ভারত তার কঠোর অবস্থানের কারণে কিছু ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলো: রাশেদ খাঁন

যেভাবে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে ভারত

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘একঘরে’ করার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক কৌশল এখন উল্টো ফল দিচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

 

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় অবস্থানে চলে গেছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে এক জনসভায় মোদি বলেছিলেন, পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে ‘একঘরে’ করবে ভারত। কিন্তু এক দশক পর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন চীনসহ একাধিক শক্তিশালী দেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক পুনরায় উন্নত করেছে।

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ চুক্তিও করেছে।

 

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা থাকলেও বাস্তবে দেশটি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

 

বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারতের পাকিস্তানবিরোধী কৌশল ‘অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ’ হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান নিজের অবস্থান শক্ত করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ও তথ্যযুদ্ধেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। তবে তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি।

 

এদিকে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক অগ্রগতির পেছনে চীনের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে ‘জঙ্গিবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না’ নীতি অনুসরণ করে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখেছে। তবে এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কৌশলগত অবস্থান শক্ত করছে। অন্যদিকে ভারত তার কঠোর অবস্থানের কারণে কিছু ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।