এবার সংঘাতে টানা কয়েকদিনের বিরতির পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলার দাবি করেছে তারা। এছাড়া ইয়েমেনে সৌদি আরবের একটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি কেন্দ্র লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে তাদের বিমান ও মহাকাশ বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি এবং আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অবৈধ ও শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে প্রতিরোধও অব্যাহত থাকবে।’ তারা আরও বলেছে, ‘মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকি এবং আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবৈধ হস্তক্ষেপ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আধা–সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য, ‘নিরাপত্তাহীন ও অবৈধ পথে চলাচল করে আমাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো থামিয়ে দেয়া হয়েছে।’ তারা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ বা নির্দেশনা’ অনুসরণ করে চললে যেকোনও জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা সাদা গভর্নরেটের আকাশে সৌদি আরবের একটি ‘কারায়েল’ মডেলের নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ড্রোনটি সাদার আকাশসীমায় ‘শত্রুতামূলক তৎপরতা’ চালানোর সময় উপযুক্ত অস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জবাব দেয়া আমাদের বৈধ অধিকার।’

ডেস্ক রিপোর্ট 























