ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে ৭ বছর পর জেল থেকে মুক্ত কাবার সাবেক ইমাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৩৪ বার পড়া হয়েছে

সাত বছরের কারাবাসের পর মসজিদুল হারামের সাবেক ইমাম শায়খ সালেহ আল-তালিবকে মুক্তি দিয়েছে সৌদি সরকার। তবে এখনও তিনি গৃহবন্দি আছেন এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটর লাগানো রয়েছে। প্রিজনার্স অব কনসায়েন্স নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা সামাজিক মাধ্যমে তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শায়খ সালেহ আল-তালিব এখনও গৃহবন্দি আছেন এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটর লাগানো আছে। এই সংস্থাটি সৌদির ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আলেমদের গ্রেপ্তার ও বন্দিত্বের ঘটনা মনিটর করে থাকে।

সৌদি নেতৃত্বের সমালোচনা ও মিশ্র লিঙ্গ কেন্দ্রিক এক বক্তৃতার কারণে ২০১৮ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন শায়খ সালেহ আল-তালিব। ওই বক্তৃতায় তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে খোলাখুলিভাবে বক্তব্য ও ইসলামে নৈতিক দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন এবং বিশেষভাবে সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটি ও মিশ্র লিঙ্গের অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর কখনো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।

অবশ্য সৌদি সরকার কখনও কাবার ইমাম শায়খ সালেহ আল-তালিবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ প্রকাশ করেনি। তবে এই বক্তৃতার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালে রিয়াদের বিশেষ আপিল আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তিনি ১৯৭৪ সালের ২৩ জানুয়ারি হুৎতাত বানী তায়মি পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। এই পরিবার বিশিষ্ট ইসলামি শিক্ষাবিদ, বিচারক ও গবেষকদের পরিবার হিসেবে পরিচিত ও বিখ্যাত। শায়খ সালেহ আল-তালিব কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত এবং বক্তৃতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। অনলাইনে তার লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। কারাবাসের আগে তিনি মক্কা, রিয়াদ ও অন্যান্য অঞ্চলে বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন।

শায়খ সালেহ আল-তালিবের মুক্তির ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুনে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজপরিবারের সদস্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনামূলক মন্তব্যকারীদের গ্রেপ্তার বেড়ে গেছে। সৌদি সরকারের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচিত হয়েছে। সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও কর্মীরা প্রায়ই তাদের মতামতের কারণে দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে ৭ বছর পর জেল থেকে মুক্ত কাবার সাবেক ইমাম

আপডেট সময় ০৫:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাত বছরের কারাবাসের পর মসজিদুল হারামের সাবেক ইমাম শায়খ সালেহ আল-তালিবকে মুক্তি দিয়েছে সৌদি সরকার। তবে এখনও তিনি গৃহবন্দি আছেন এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটর লাগানো রয়েছে। প্রিজনার্স অব কনসায়েন্স নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা সামাজিক মাধ্যমে তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শায়খ সালেহ আল-তালিব এখনও গৃহবন্দি আছেন এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটর লাগানো আছে। এই সংস্থাটি সৌদির ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আলেমদের গ্রেপ্তার ও বন্দিত্বের ঘটনা মনিটর করে থাকে।

সৌদি নেতৃত্বের সমালোচনা ও মিশ্র লিঙ্গ কেন্দ্রিক এক বক্তৃতার কারণে ২০১৮ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন শায়খ সালেহ আল-তালিব। ওই বক্তৃতায় তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে খোলাখুলিভাবে বক্তব্য ও ইসলামে নৈতিক দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন এবং বিশেষভাবে সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটি ও মিশ্র লিঙ্গের অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর কখনো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।

অবশ্য সৌদি সরকার কখনও কাবার ইমাম শায়খ সালেহ আল-তালিবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ প্রকাশ করেনি। তবে এই বক্তৃতার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালে রিয়াদের বিশেষ আপিল আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তিনি ১৯৭৪ সালের ২৩ জানুয়ারি হুৎতাত বানী তায়মি পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। এই পরিবার বিশিষ্ট ইসলামি শিক্ষাবিদ, বিচারক ও গবেষকদের পরিবার হিসেবে পরিচিত ও বিখ্যাত। শায়খ সালেহ আল-তালিব কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত এবং বক্তৃতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। অনলাইনে তার লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। কারাবাসের আগে তিনি মক্কা, রিয়াদ ও অন্যান্য অঞ্চলে বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন।

শায়খ সালেহ আল-তালিবের মুক্তির ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুনে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজপরিবারের সদস্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনামূলক মন্তব্যকারীদের গ্রেপ্তার বেড়ে গেছে। সৌদি সরকারের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচিত হয়েছে। সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও কর্মীরা প্রায়ই তাদের মতামতের কারণে দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন।