ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন আরও আধুনিক হচ্ছে। আর ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই পরিবর্তনকে নিয়ে যাচ্ছে নতুন উচ্চতায়। কারণ এবার মাঠে নামছে এমন এক ‘স্মার্ট বল’, যা শুধু খেলার অংশই হবে না, রেফারিং সিদ্ধান্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ তৈরি করেছে ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। উন্নত সেন্সর, রিয়েল-টাইম ডেটা আদান-প্রদান এবং আধুনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি এই বলকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে ইংরেজি Tri এবং স্প্যানিশ Onda শব্দ থেকে। Tri নির্দেশ করে বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে। আর Onda অর্থ ঢেউ। অর্থাৎ, তিন দেশের ঐক্য ও উদযাপনের প্রতীক হিসেবেই নামকরণ করা হয়েছে এই বলের।
বলের নকশাতেও উঠে এসেছে আয়োজক দেশগুলোর পরিচয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কানাডার ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারার প্রতীক। লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে তৈরি ডিজাইন যৌথ আয়োজনের বার্তা বহন করছে।
তবে ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। বলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে ৫০০ হার্টজের অত্যাধুনিক মোশন সেন্সর, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বলের গতি, অবস্থান, স্পর্শ এবং গতিপথের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআর সিস্টেমে পাঠাবে এই সেন্সর।
ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা বল স্পর্শসংক্রান্ত বিতর্কিত মুহূর্তগুলো আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি মাঠের বিতর্ক কমিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রেফারিদের আরও কার্যকর সহায়তা দেবে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি বলটির গঠনেও রয়েছে বিশেষত্ব। মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি ট্রাইওন্ডা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম প্যানেলযুক্ত বল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যাডিডাসের দাবি, এই নকশা বলের উড্ডয়নকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ ও পাসিংয়ে বাড়তি সুবিধা দেবে।
স্মার্ট প্রযুক্তি সচল রাখতে বলটির ভেতরে থাকা চিপ নিয়মিত চার্জ দিতে হয়। পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
অর্থাৎ, ২০২৬ বিশ্বকাপে শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই নয়, প্রযুক্তিও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। আর সেই প্রযুক্তির অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে যাচ্ছে ‘ট্রাইওন্ডা’—যে বল হয়তো অফসাইড বিতর্কের অবসানে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























