ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭ হাজার একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষকরা তুরস্কে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি ক্বারীর বিশ্বজয় নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা: আদালতে আসামির আপিল খারিজ গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ থাকবে: জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলো যশোরে শুভেচ্ছা জানানো সেই শিশু ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ, প্রথম ধাপেই চমক আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: তারেক রহমান ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত ফরেনসিকে শেখ হাসিনা-তাপসের কণ্ঠে মিল, হাবিবুরের ভয়েসও শনাক্ত

রিজওয়ানা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা, শেখ হাসিনাও তার ধারেকাছে আসবেন না: সিনিয়র আইনজীবী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেছেন, গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রেকাশিত সংবাদের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে এখন যেভাবে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত একজন মহিলাসাংঘাতিকভাবে করাপ্ট। আমি জানি না, তার মতো আর কোনো এতটা দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বাংলাদেশে আছে কি না। এমনকি শেখ হাসিনাও তার ধারেকাছে আসবেন নাএতটাই খারাপ বলে মনে হচ্ছে। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রের নিয়মিত আয়োজনে এ কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, ‘জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠএর ফ্রন্ট পেজে তার সম্পর্কে যে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, তা আমাকে অবাক করেছে। তিনি এতটা খারাপএটা আগে বুঝতে পারিনি। বিশেষ করে, তিনি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পুলিশকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা দেখে তার আচরণের একটি ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি। পাসপোর্টে তার নাম থাকে এবং বিদেশে গেলে তাকে যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ থাকে। সংসদে পাস হওয়া বিল, বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা বদলিএসব ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ।’

কিন্তু এই মহিলা ব্রাসেলসে গিয়ে আমাদের এম্বাসি বা কনস্যুলেটে থাকা রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর নির্দেশ দেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক নির্দেশফরেন মিনিস্ট্রির কোনো অনুমোদন ছাড়াই। তিনি নিজে ফোন করে সব এম্বাসি থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর নির্দেশ দেন। অথচ এই ধরনের কাজ করতে হলে আইনি প্রক্রিয়া, নোটিফিকেশন বা নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কোনো নিয়ম না মেনে রাতারাতি ফোনে এই কাজগুলো করিয়েছেন।’ মোহসিন রশীদ বলেন, ‘রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নসরুল হামিদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং তার স্বামী এলএনজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব বিষয় তার আচরণকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেকে মনে করেন শেখ হাসিনা নানা চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, কিন্তু আমার মতে, রিজওয়ানার মতো এতটা চরিত্রহীন বা দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বাংলাদেশে আর নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আসি ট্রাস্টি বোর্ডের বিষয়ে। একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিবিধান থাকে। সেই নিয়ম অনুসারেই বোর্ড পরিচালিত ও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছেকিভাবে একটি গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করা হলো, এবং সেই বোর্ডে উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় নিজেই সদস্য হয়ে গেলেন? আইন অনুযায়ী, ট্রাস্ট গঠনের সময়ই নির্ধারিত থাকে কিভাবে ট্রাস্টি পরিবর্তন করা যাবে। কিন্তু তথাকথিত ইন্টারিম সরকারের সময়ে এসব নিয়ম মানা হয়নি। সেই সরকার নিজেই ছিল অসাংবিধানিক ও অবৈধ। তাদের প্রধান ইউনূসও একইভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন এবং বিভিন্ন বেআইনি কাজ করেছেনযেমন ট্যাক্স মওকুফ, মামলা প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ইত্যাদি।এই পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। গণস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদালতে যেতে হবে এবং এসব অনিয়ম তুলে ধরতে হবে। যেহেতু সেই সময় কার্যত কোনো আইনি কাঠামো মানা হয়নি, তাই এখন বিচারিক তদন্ত প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছি, যেখানে পুরো সরকারের বিরুদ্ধে একটি কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই রিটের শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবেসম্ভবত কাল বা রবিবারের মধ্যে। এই দেশে এত অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি আর কোনো সরকার করেনি। ব্যাংক লুটপাট হয়েছেএটা সত্য, কিন্তু এভাবে সর্বব্যাপী দুর্নীতি আগে দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্ট এই বিষয়ে কোনো রুল জারি করে কি না এবং কমিশন গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না। আমি শিগগিরই শুনানির জন্য আবেদন করব। ইতিমধ্যে রিট পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর নম্বর পাওয়া যাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭ হাজার একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষকরা

রিজওয়ানা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা, শেখ হাসিনাও তার ধারেকাছে আসবেন না: সিনিয়র আইনজীবী

আপডেট সময় ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

এবার বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেছেন, গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রেকাশিত সংবাদের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে এখন যেভাবে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত একজন মহিলাসাংঘাতিকভাবে করাপ্ট। আমি জানি না, তার মতো আর কোনো এতটা দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বাংলাদেশে আছে কি না। এমনকি শেখ হাসিনাও তার ধারেকাছে আসবেন নাএতটাই খারাপ বলে মনে হচ্ছে। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রের নিয়মিত আয়োজনে এ কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, ‘জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠএর ফ্রন্ট পেজে তার সম্পর্কে যে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, তা আমাকে অবাক করেছে। তিনি এতটা খারাপএটা আগে বুঝতে পারিনি। বিশেষ করে, তিনি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পুলিশকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা দেখে তার আচরণের একটি ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি। পাসপোর্টে তার নাম থাকে এবং বিদেশে গেলে তাকে যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ থাকে। সংসদে পাস হওয়া বিল, বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা বদলিএসব ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ।’

কিন্তু এই মহিলা ব্রাসেলসে গিয়ে আমাদের এম্বাসি বা কনস্যুলেটে থাকা রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর নির্দেশ দেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক নির্দেশফরেন মিনিস্ট্রির কোনো অনুমোদন ছাড়াই। তিনি নিজে ফোন করে সব এম্বাসি থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর নির্দেশ দেন। অথচ এই ধরনের কাজ করতে হলে আইনি প্রক্রিয়া, নোটিফিকেশন বা নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কোনো নিয়ম না মেনে রাতারাতি ফোনে এই কাজগুলো করিয়েছেন।’ মোহসিন রশীদ বলেন, ‘রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নসরুল হামিদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং তার স্বামী এলএনজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব বিষয় তার আচরণকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেকে মনে করেন শেখ হাসিনা নানা চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, কিন্তু আমার মতে, রিজওয়ানার মতো এতটা চরিত্রহীন বা দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বাংলাদেশে আর নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আসি ট্রাস্টি বোর্ডের বিষয়ে। একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিবিধান থাকে। সেই নিয়ম অনুসারেই বোর্ড পরিচালিত ও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছেকিভাবে একটি গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করা হলো, এবং সেই বোর্ডে উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় নিজেই সদস্য হয়ে গেলেন? আইন অনুযায়ী, ট্রাস্ট গঠনের সময়ই নির্ধারিত থাকে কিভাবে ট্রাস্টি পরিবর্তন করা যাবে। কিন্তু তথাকথিত ইন্টারিম সরকারের সময়ে এসব নিয়ম মানা হয়নি। সেই সরকার নিজেই ছিল অসাংবিধানিক ও অবৈধ। তাদের প্রধান ইউনূসও একইভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন এবং বিভিন্ন বেআইনি কাজ করেছেনযেমন ট্যাক্স মওকুফ, মামলা প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ইত্যাদি।এই পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। গণস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদালতে যেতে হবে এবং এসব অনিয়ম তুলে ধরতে হবে। যেহেতু সেই সময় কার্যত কোনো আইনি কাঠামো মানা হয়নি, তাই এখন বিচারিক তদন্ত প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছি, যেখানে পুরো সরকারের বিরুদ্ধে একটি কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই রিটের শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবেসম্ভবত কাল বা রবিবারের মধ্যে। এই দেশে এত অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি আর কোনো সরকার করেনি। ব্যাংক লুটপাট হয়েছেএটা সত্য, কিন্তু এভাবে সর্বব্যাপী দুর্নীতি আগে দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্ট এই বিষয়ে কোনো রুল জারি করে কি না এবং কমিশন গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না। আমি শিগগিরই শুনানির জন্য আবেদন করব। ইতিমধ্যে রিট পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর নম্বর পাওয়া যাবে।