ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপি নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ এমপি হাসনাতের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান ছিনতাইকারীকে গণধোলাইয়ের পর হাতের কবজি কেটে দিল জনতা তেল থেকে ডলার, ডলার থেকে গাড়ি–বাইক: শিগ্রই যুদ্ধের ধাক্কা আসছে বাজারে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালেন এমপি সাইফুল আলম খান শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইউরোপের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরানের বিপ্লবী গার্ড এবার আজারবাইজানে ইরানের ড্রোন হামলা স্পেনের প্রশংসা করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: ইরানি জেনারেল হায়দারি জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতি লিবিয়ার সমর্থন

বৃষ্টিতে ভিজে জুলাই সনদে সই করেছি, কমিশন প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৯৬ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কারের পক্ষে বলেই সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বৃষ্টির মধ্যেও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু সেই আস্থার প্রতিদান তারা পায়নি।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “ঐকমত্যের নথি (জুলাই সনদ) জমা দেওয়ার দিন বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা ছাতা ধরে স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু পরে দেখা গেল, আমাদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উল্লেখই করা হয়নি। এটি আস্থার লঙ্ঘন—ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট। জনগণের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। “বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।”

বিএনপি সংস্কারবিরোধী—এমন সমালোচনার জবাবে ফখরুল বলেন, “যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি আগে ১০ দফা, পরে ২৭ দফা, এখন ৩১ দফা দিয়েছে—সবই সংস্কারের জন্য।”

ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দিকেই তিনি বিভ্রান্তির দায় চাপিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিটি সভায় উপস্থিত ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যের সনদে সই করেছি। বিভ্রান্তি যদি থেকে থাকে, তা কমিশনের দিক থেকেই এসেছে।”

জামায়াতসহ কিছু দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। একসময় আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আজ আবার জনগণ যে নির্বাচন চায়, তার বিরোধিতা করবেন না।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, “আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে লড়েছি, এবারও ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গড়তে চাই।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ এমপি হাসনাতের

বৃষ্টিতে ভিজে জুলাই সনদে সই করেছি, কমিশন প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:২৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কারের পক্ষে বলেই সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বৃষ্টির মধ্যেও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু সেই আস্থার প্রতিদান তারা পায়নি।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “ঐকমত্যের নথি (জুলাই সনদ) জমা দেওয়ার দিন বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা ছাতা ধরে স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু পরে দেখা গেল, আমাদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উল্লেখই করা হয়নি। এটি আস্থার লঙ্ঘন—ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট। জনগণের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। “বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।”

বিএনপি সংস্কারবিরোধী—এমন সমালোচনার জবাবে ফখরুল বলেন, “যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি আগে ১০ দফা, পরে ২৭ দফা, এখন ৩১ দফা দিয়েছে—সবই সংস্কারের জন্য।”

ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দিকেই তিনি বিভ্রান্তির দায় চাপিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিটি সভায় উপস্থিত ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যের সনদে সই করেছি। বিভ্রান্তি যদি থেকে থাকে, তা কমিশনের দিক থেকেই এসেছে।”

জামায়াতসহ কিছু দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। একসময় আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আজ আবার জনগণ যে নির্বাচন চায়, তার বিরোধিতা করবেন না।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, “আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে লড়েছি, এবারও ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গড়তে চাই।”