বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মানিকদিপা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত—দুই প্যানেলেই আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার কমিটি গঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২৫। তফসিল ঘোষণার পর মঙ্গলবার উভয় প্যানেলই মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
বিএনপি প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল বাছেদ রঞ্জু জানান, আড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম বেগমকে জামায়াতে ইসলামী ঘরানার প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মরিয়ম বেগমের স্বামী আহম্মেদ আলী ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
অন্যদিকে জামায়াত প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, বিএনপি প্যানেলে রাখা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিব সুমনকে, যিনি বিগত দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা রাসেল প্রকাশ্যে বিএনপি প্যানেলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
জামায়াত প্যানেলে আওয়ামী লীগ নেত্রী অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করলে আব্দুল ওহাব বলেন,
“ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে এমন কোনো নিয়ম নেই যে আওয়ামী লীগ করলে ভোট করা যাবে না। মরিয়ম বেগম একজন অভিভাবক সদস্য এবং তার সন্তান এই মাদ্রাসায় পড়ে।”
অন্যদিকে বিএনপি প্যানেলের প্রার্থী রঞ্জু জানান,
“এলাকায় ভোটের আমেজ রয়েছে। রাসেল ছাত্রলীগ করে কিনা আমি জানি না। আর আহসান হাবিব সুমনের বর্তমানে কোনো দলীয় পদ নেই।”
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ভিপি সাজেদুর রহমান শাহিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করছেন। অপরদিকে আহসান হাবিব সুমনেরও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নুর সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার একাধিক ছবি প্রকাশ পেয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ,
“ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থীদের প্রশ্রয় দেওয়া বিএনপি ও জামায়াতের জন্য লজ্জাজনক। তারা যেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রভাব থেকে দূরে থাকে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার বিষয়—মাদ্রাসার নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত প্যানেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি কি নতুন রাজনৈতিক কৌশল, নাকি নীতিগত দুর্বলতা?

