ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে এনবিআরের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন ডুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তির দাবি ছাত্রদলের এবার জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা একদল শিক্ষার্থীর আমপাতা জোড়া জোড়া’ নিয়ে এলেন কনা আজ সন্ধ্যায় প্রথম দফায় কারিনা কায়সারের জানাজা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর হাত মামুনুল হকের মাথায়, হেফাজতে ঐক্যের বার্তা ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর করারোপ হবে জনস্বার্থবিরোধী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নিহত ডুয়েটে ভিসি নিয়োগ ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত বহু শিক্ষার্থী

চীন কোনো হুমকিকে ভয় করে না: পশ্চিমাদের কড়া বার্তা দিলেন জিনপিং

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

এবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন কোনও হুমকিতে ভীত হবে না এবং সব সময় সামনে এগিয়ে যাবে। বিশ্বকে সতর্ক করে চীনা নেতা বলেছেন, মানবজাতি আজ শান্তি ও যুদ্ধের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক দিকেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের ৮০ বছর পূর্তিতে শি জিনপিং বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চীনের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন। সেখানে তার দুই পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন।

বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এই কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে ১০ হাজার সেনা । জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কয়েক হাজার মানুষের এক সাথে গাওয়া জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ। সামরিক প্যারেড শুরু হওয়ার পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন কে স্বাগত জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই প্রথমবার তিন নেতা একসাথে মিলিত হলেন। এই সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেন ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জিম্বাবুয়ে ও মধ্য এশিয়ার নেতারা।

সামরিক কুচকাওয়াজের জন্য নেয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বেইজিংয়ের প্রধান সড়ক এবং স্কুল। ৭০ মিনিটের এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ১০ হাজার সেনা। সজ্জিত ট্যাংক সঙ্গে ছিল ড্রোন ও রোবোটিক সেনারাও। এছাড়া উন্মোচন হয়েছে একাধিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল। এসব ক্রুজ, ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ মহাসমারোহে পশ্চিমা বিশ্ব প্রায় অনুপস্থিত ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কিমের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে যাদেরকে পশ্চিমে প্রায় নির্বাসিত ভাবা হয়, সেই পুতিন ও কিম ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি। চীনের সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের জন্য পরিকল্পিত এই কুচকাওয়াজ এমন এক সময়ে হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্কনীতি এবং অস্থির নীতি মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ককে চাপে ফেলছে।

সামরিক কুচকাওয়াজে দেয়া ভাষণে শি জিনপিং বলেন, আজ মানবজাতি শান্তি নাকি যুদ্ধ, সংলাপ নাকি মুখোমুখি সংঘর্ষ, উভয়ের জয় নাকি শূন্য যোগফল- এর মধ্যে একটিকে বেছে নেয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি আরও বলেন, চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক দিকেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। একটি খোলা লিমুজিনে চড়ে শি সেনাদের অভিবাদন জানান এবং ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও ড্রোনসহ অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন। আকাশে হেলিকপ্টারগুলো বিশাল ব্যানার টেনে নিয়ে যায়। ৭০ মিনিটের এই প্রদর্শনী ছিল প্রতীকী বার্তা ও প্রচারণায় ভরপুর।

মাও সেতুংয়ের ধাঁচের পোশাক পরে শি ইংরেজিতে ২০ জনেরও বেশি বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানান- ‘নাইস টু মিট ইউ’ ও ‘ওয়েলকাম টু চায়না’ বলে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট, নিজ দেশে তীব্র আন্দোলনের মুখোমুখি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি।পশ্চিমা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রাখছেন, পুতিন-শি-কিম এই ত্রয়ী নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয় কি না। জুন ২০২৪-এ রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্ভাব্য জোট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে।

এই ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য কোনো ঝুঁকি নেয়া হয়নি। বেইজিংয়ে প্রধান সড়ক ও বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও গভীর রাতে মহড়া চালানো হয়েছে। সারাদেশে স্থানীয় সরকার হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যকে নিয়োগ করেছে যে কোনো সম্ভাব্য অশান্তি ঠেকাতে। অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গ্লোবাল চায়না হাবের ফেলো ওয়েন-টি সাং বলেন, প্রেসিডেন্ট শি এই সুযোগ ব্যবহার করছেন এটা দেখানোর জন্য যে সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে, দৃঢ়ভাবে তার পাশে রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে এনবিআরের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন

চীন কোনো হুমকিকে ভয় করে না: পশ্চিমাদের কড়া বার্তা দিলেন জিনপিং

আপডেট সময় ০৪:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন কোনও হুমকিতে ভীত হবে না এবং সব সময় সামনে এগিয়ে যাবে। বিশ্বকে সতর্ক করে চীনা নেতা বলেছেন, মানবজাতি আজ শান্তি ও যুদ্ধের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক দিকেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের ৮০ বছর পূর্তিতে শি জিনপিং বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চীনের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন। সেখানে তার দুই পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন।

বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এই কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে ১০ হাজার সেনা । জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কয়েক হাজার মানুষের এক সাথে গাওয়া জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ। সামরিক প্যারেড শুরু হওয়ার পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন কে স্বাগত জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই প্রথমবার তিন নেতা একসাথে মিলিত হলেন। এই সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেন ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জিম্বাবুয়ে ও মধ্য এশিয়ার নেতারা।

সামরিক কুচকাওয়াজের জন্য নেয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বেইজিংয়ের প্রধান সড়ক এবং স্কুল। ৭০ মিনিটের এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ১০ হাজার সেনা। সজ্জিত ট্যাংক সঙ্গে ছিল ড্রোন ও রোবোটিক সেনারাও। এছাড়া উন্মোচন হয়েছে একাধিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল। এসব ক্রুজ, ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ মহাসমারোহে পশ্চিমা বিশ্ব প্রায় অনুপস্থিত ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কিমের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে যাদেরকে পশ্চিমে প্রায় নির্বাসিত ভাবা হয়, সেই পুতিন ও কিম ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি। চীনের সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের জন্য পরিকল্পিত এই কুচকাওয়াজ এমন এক সময়ে হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্কনীতি এবং অস্থির নীতি মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ককে চাপে ফেলছে।

সামরিক কুচকাওয়াজে দেয়া ভাষণে শি জিনপিং বলেন, আজ মানবজাতি শান্তি নাকি যুদ্ধ, সংলাপ নাকি মুখোমুখি সংঘর্ষ, উভয়ের জয় নাকি শূন্য যোগফল- এর মধ্যে একটিকে বেছে নেয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি আরও বলেন, চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক দিকেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। একটি খোলা লিমুজিনে চড়ে শি সেনাদের অভিবাদন জানান এবং ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও ড্রোনসহ অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন। আকাশে হেলিকপ্টারগুলো বিশাল ব্যানার টেনে নিয়ে যায়। ৭০ মিনিটের এই প্রদর্শনী ছিল প্রতীকী বার্তা ও প্রচারণায় ভরপুর।

মাও সেতুংয়ের ধাঁচের পোশাক পরে শি ইংরেজিতে ২০ জনেরও বেশি বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানান- ‘নাইস টু মিট ইউ’ ও ‘ওয়েলকাম টু চায়না’ বলে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট, নিজ দেশে তীব্র আন্দোলনের মুখোমুখি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি।পশ্চিমা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রাখছেন, পুতিন-শি-কিম এই ত্রয়ী নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয় কি না। জুন ২০২৪-এ রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্ভাব্য জোট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে।

এই ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য কোনো ঝুঁকি নেয়া হয়নি। বেইজিংয়ে প্রধান সড়ক ও বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও গভীর রাতে মহড়া চালানো হয়েছে। সারাদেশে স্থানীয় সরকার হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যকে নিয়োগ করেছে যে কোনো সম্ভাব্য অশান্তি ঠেকাতে। অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গ্লোবাল চায়না হাবের ফেলো ওয়েন-টি সাং বলেন, প্রেসিডেন্ট শি এই সুযোগ ব্যবহার করছেন এটা দেখানোর জন্য যে সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে, দৃঢ়ভাবে তার পাশে রয়েছে।