ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিয়েছেন জুবাইদা রহমান হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রীর ছেলে জ্বালানির দাম ৩ বার বাড়িয়ে সরকার দায়িত্বহীনতা দেখিয়েছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু থানার দরজা ভেঙে পালাল ১৭ কিশোর গ্যাং সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিল ইরান নবায়ন নয়, গঙ্গা পানিবণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ নিজেই রোলার চালিয়ে ৩ লাখের বেশি বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস করলেন শুভেন্দু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে: খামেনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
  • ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের পর শনিবার (১৭ মে) তেহরানে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলের সমালোচনা করে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাখতে চায়। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোর দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে আমেরিকাকে অবশ্যই এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে এবং চলে যাবে।’

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের জন্য মধ্যপ্রাচ্য সফরে যান ট্রাম্প। তার এই সফরে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সফরকালে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি ইরানের তেল রফতানি শূণ্যে নামিয়ে আনার হুঁশিয়ারি দেন। গত মঙ্গলবার (১৩ মে) যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতারা তাদের জনগণের সম্পদ চুরি করে অন্য দেশে সন্ত্রাস ও রক্তপাতে মনযোগ দিয়েছেন।’

এরপর শুক্রবার (১৬ মে) দেশে ফেরার পথে তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা জানে যে তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে খারাপ কিছু ঘটবে।’ ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন খামেনি। শনিবার তেহরানের একটি মসজিদে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘জবাবের উপযুক্ত নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘ওই সব মন্তব্য এতই নিচুমানের যে সেগুলো ‘বক্তা ও আমেরিকান জনগণের জন্য লজ্জাজনক’।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলেন খামেনি। তিনি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রচেষ্টা নিয়ে অসততার অভিযোগ করেন। তার কথায়, ‘ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি তার শক্তি ও প্রভাবকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করতে চান।’ ‘কিন্তু তিনি ও তার প্রশাসন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতার ব্যবহার করছেন গাজায় গণহত্যা চালাতে, যেখানে খুশি যুদ্ধ উসকে দিতে আর নিজেদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে,’ বলেন খামেনি।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরব দেশগুলোকে এমন একটি মডেল উপহার দিয়েছেন যেটা তার নিজের ভাষা থেকেই স্পষ্ট যে, দেশগুলো আমেরিকা ছাড়া দশ দিনও টিকে থাকতে পারবে না।’ খামেনি বলেন, ‘এই মডেল অবশ্যই ব্যর্থ হয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সংগ্রামের সাথে সাথে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে এবং এক সময় চলে যাবে।’ খামেনি ইসরাইলি শাসন ব্যবস্থাকে এই অঞ্চলে ‘দুর্নীতির উৎস, যুদ্ধের উৎস এবং বিবাদের উৎস’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এই অঞ্চলে একটি বিপজ্জনক এবং মারাত্মক ক্যান্সারজনিত টিউমার। এই ইহুদিবাদী শাসন ব্যবস্থাকে অবশ্যই উপড়ে ফেলতে হবে এবং তা অবশ্যই উৎপাটন করা হবে।’

ভাষণের অন্যত্র ইরানের নেতা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি যে, আমরা শিক্ষায় যা কিছু খরচ করি তা আসলে একটি বিনিয়োগ, ব্যয় নয়; এটি বহুমুখী লাভের জন্য ভূমি প্রশস্ত করার মতো। আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত যে এই সময়কালে প্রশাসন শিক্ষাখাতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে মাননীয় প্রেসিডেন্ট নিজে নিজে এ বিষয়ে মনযোগ দিয়েছেন।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা

যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে: খামেনি

আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

এবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের পর শনিবার (১৭ মে) তেহরানে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলের সমালোচনা করে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাখতে চায়। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোর দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে আমেরিকাকে অবশ্যই এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে এবং চলে যাবে।’

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের জন্য মধ্যপ্রাচ্য সফরে যান ট্রাম্প। তার এই সফরে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সফরকালে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি ইরানের তেল রফতানি শূণ্যে নামিয়ে আনার হুঁশিয়ারি দেন। গত মঙ্গলবার (১৩ মে) যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতারা তাদের জনগণের সম্পদ চুরি করে অন্য দেশে সন্ত্রাস ও রক্তপাতে মনযোগ দিয়েছেন।’

এরপর শুক্রবার (১৬ মে) দেশে ফেরার পথে তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা জানে যে তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে খারাপ কিছু ঘটবে।’ ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন খামেনি। শনিবার তেহরানের একটি মসজিদে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘জবাবের উপযুক্ত নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘ওই সব মন্তব্য এতই নিচুমানের যে সেগুলো ‘বক্তা ও আমেরিকান জনগণের জন্য লজ্জাজনক’।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলেন খামেনি। তিনি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রচেষ্টা নিয়ে অসততার অভিযোগ করেন। তার কথায়, ‘ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি তার শক্তি ও প্রভাবকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করতে চান।’ ‘কিন্তু তিনি ও তার প্রশাসন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতার ব্যবহার করছেন গাজায় গণহত্যা চালাতে, যেখানে খুশি যুদ্ধ উসকে দিতে আর নিজেদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে,’ বলেন খামেনি।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরব দেশগুলোকে এমন একটি মডেল উপহার দিয়েছেন যেটা তার নিজের ভাষা থেকেই স্পষ্ট যে, দেশগুলো আমেরিকা ছাড়া দশ দিনও টিকে থাকতে পারবে না।’ খামেনি বলেন, ‘এই মডেল অবশ্যই ব্যর্থ হয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সংগ্রামের সাথে সাথে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে এবং এক সময় চলে যাবে।’ খামেনি ইসরাইলি শাসন ব্যবস্থাকে এই অঞ্চলে ‘দুর্নীতির উৎস, যুদ্ধের উৎস এবং বিবাদের উৎস’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এই অঞ্চলে একটি বিপজ্জনক এবং মারাত্মক ক্যান্সারজনিত টিউমার। এই ইহুদিবাদী শাসন ব্যবস্থাকে অবশ্যই উপড়ে ফেলতে হবে এবং তা অবশ্যই উৎপাটন করা হবে।’

ভাষণের অন্যত্র ইরানের নেতা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি যে, আমরা শিক্ষায় যা কিছু খরচ করি তা আসলে একটি বিনিয়োগ, ব্যয় নয়; এটি বহুমুখী লাভের জন্য ভূমি প্রশস্ত করার মতো। আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত যে এই সময়কালে প্রশাসন শিক্ষাখাতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে মাননীয় প্রেসিডেন্ট নিজে নিজে এ বিষয়ে মনযোগ দিয়েছেন।’