ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পশ্চিমবঙ্গ কোরবানি বন্ধের চেষ্টা হলে লাখো মানুষ নিয়ে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি: হুমায়ুন কবির শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এবারের হজে খুতবা অনুবাদ করা হবে বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় হাম পরিস্থিতি শিখিয়েছে, আজকের দায়িত্বহীনতা ভবিষ্যতের সংকট: তথ্যমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর: অর্থমন্ত্রী ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান ‘ভিয়েতনাম ট্র‌্যাপে’ পড়তে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই গ্রাফিতি অঙ্কন করে পরিস্থিতি শান্ত করলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী

আশ্রয় নেওয়া ৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দিলো ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২৪৯ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় প্রথম ধাপে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। এর মধ্যে ওড়িশা রাজ্যে ৩৫ জন এবং আসাম রাজ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের কাছে এটি একটি বড় স্বস্তি। খবর দ্য হিন্দুর।

ওড়িশা রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন নাগরিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের প্রতীক। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত সিএএ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এই ৩৫ জন অভিবাসীকে গত বৃহস্পতিবার(১১ ডিসেম্বর) নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওড়িশায় সিএএ-এর আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫১ জনে। বর্তমানে রাজ্যটিতে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।ওড়িশার জনশুমারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

এদিকে নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের একজন পরিতোষ সরকার, জানান, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর প্রতিশোধমূলক হামলায় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর গণহত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সেসময় তার পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে ওড়িশার নবরংপুর জেলার ওমরকোটে আশ্রয় নিয়েছিল। বহু দশক পর এবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করলেন।এদিকে, আসামে প্রথমবারের মতো নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় একজন বাংলাদেশি নারী ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী এই নারী ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। শিলচরের সাবেক ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য ও আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে শিলচরে আসার সময় স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব আরও জানান, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৫(১)(সি) ও ৬বি ধারার অধীনে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই নারীকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেন এবং টানা সাত বছর ভারতে বসবাস করেন, তবে তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিমরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেই বিধান অনুসারেই ওড়িশায় নতুন করে এই ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আশ্রয় নেওয়া ৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দিলো ভারত

আপডেট সময় ১২:২৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার ভারতের বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় প্রথম ধাপে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। এর মধ্যে ওড়িশা রাজ্যে ৩৫ জন এবং আসাম রাজ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের কাছে এটি একটি বড় স্বস্তি। খবর দ্য হিন্দুর।

ওড়িশা রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন নাগরিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের প্রতীক। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত সিএএ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এই ৩৫ জন অভিবাসীকে গত বৃহস্পতিবার(১১ ডিসেম্বর) নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওড়িশায় সিএএ-এর আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫১ জনে। বর্তমানে রাজ্যটিতে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।ওড়িশার জনশুমারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

এদিকে নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের একজন পরিতোষ সরকার, জানান, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর প্রতিশোধমূলক হামলায় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর গণহত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সেসময় তার পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে ওড়িশার নবরংপুর জেলার ওমরকোটে আশ্রয় নিয়েছিল। বহু দশক পর এবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করলেন।এদিকে, আসামে প্রথমবারের মতো নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় একজন বাংলাদেশি নারী ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী এই নারী ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। শিলচরের সাবেক ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য ও আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে শিলচরে আসার সময় স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব আরও জানান, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৫(১)(সি) ও ৬বি ধারার অধীনে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই নারীকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেন এবং টানা সাত বছর ভারতে বসবাস করেন, তবে তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিমরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেই বিধান অনুসারেই ওড়িশায় নতুন করে এই ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।