ঢাকা , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল: ওমান সৌদি আরব যুদ্ধে জড়ালে ব্যবহার হবে পাকিস্তানের পরমাণু! ইরানে আগ্রাসনের প্রভাবে ১০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হতে পারে মার্কিন অর্থনীতি বিবেকবান মার্কিনিরা এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করবেন, বিশ্বাস ইরানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় জামায়াত আমির চীনের উপহারকে যৌথ উদ্যোগ বলে বিতরণ, জামায়াতের বক্তব্যে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের ৫০ গ্রামে ঈদ উদযাপন কাল ইরান আমাদের যুদ্ধ নয়, ট্রাম্পকে জানালো ইউরোপ বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন সঠিক নয়: দাবি সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

৩ বার ঈদ ও ২ বার হজ পালন করা হবে যে ইংরেজি বছরে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮৬৯ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের মুসলমানরা আগামী ২০৩৯ সালে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ওই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা তিনটি ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে থাকবে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ মৌসুম।

সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই বিরল ঘটনা হিজরি বা চন্দ্রবর্ষের সঙ্গে সৌরবর্ষভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত ব্যবধানের ফল। ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে থাকায় নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী মিল ঘটে।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি পালিত হবে প্রথম ঈদুল আজহা, যা হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ। এই দিনেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবার হজ মৌসুম শেষ হবে এবং পালিত হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা, যা হবে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে—যা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, এই দুই ঈদুল আজহার আগে দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে ইবাদত ও দোয়ায় মগ্ন থাকেন।

এ দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবেন।

এদিকে, চন্দ্রবর্ষের এই সময়গত স্থানান্তরের প্রভাব শুধু হজ ও ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে মুসলমানরা একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই পার্থক্যের কারণেই ইসলামী মাসগুলো প্রতি বছর প্রায় ১০–১১ দিন এগিয়ে আসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল ও কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ঘটে।

সূত্র: গালফ নিউজ

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

৩ বার ঈদ ও ২ বার হজ পালন করা হবে যে ইংরেজি বছরে

আপডেট সময় ০৭:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের মুসলমানরা আগামী ২০৩৯ সালে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ওই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা তিনটি ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে থাকবে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ মৌসুম।

সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই বিরল ঘটনা হিজরি বা চন্দ্রবর্ষের সঙ্গে সৌরবর্ষভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত ব্যবধানের ফল। ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে থাকায় নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী মিল ঘটে।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি পালিত হবে প্রথম ঈদুল আজহা, যা হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ। এই দিনেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবার হজ মৌসুম শেষ হবে এবং পালিত হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা, যা হবে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে—যা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, এই দুই ঈদুল আজহার আগে দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে ইবাদত ও দোয়ায় মগ্ন থাকেন।

এ দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবেন।

এদিকে, চন্দ্রবর্ষের এই সময়গত স্থানান্তরের প্রভাব শুধু হজ ও ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে মুসলমানরা একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই পার্থক্যের কারণেই ইসলামী মাসগুলো প্রতি বছর প্রায় ১০–১১ দিন এগিয়ে আসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল ও কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ঘটে।

সূত্র: গালফ নিউজ