ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা, বাথরুমে বন্দি ছাত্রীকে অবশেষে উদ্ধার অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়: স্পিকার ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন বাউফলের পাঁচ নবজাতকের অসহায় পরিবারে ড. মাসুদ এমপির মানবতার স্পর্শ সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক ম্যাচ হারের পর ভিনিসিউসকে বায়ার্নের মাঠে রেখেই চলে গেল রিয়ালের বাস মার্কিন যুদ্ধবিমানের নতুন আতঙ্ক, চীনের তৈরি ইরানের অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড গণভোটের রায় পূর্ণ বাস্তবায়নে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মামুনুল হক সন্ধ্যায় সাবেক অধিনায়কদের ক্যাপ্টেনস কার্ড দেবে বিসিবি আমার স্বামীকে হাত-পা বেঁধে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে হত্যা করা হয়: বিডিআর সদস্যর স্ত্রী

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন বাংলাদেশের ২ অন্ধ হাফেজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানেরমাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’-এর অন্ধ বিভাগের ২ অন্ধ হাফেজ দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন। তারা পৃথিবীর ধুলোবালি দেখেনি, কিন্তু তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে, তখন তারা সরাসরি অনুভব করে আরশের মালিকের নূর। হাজার হাজার পৃষ্ঠা, লক্ষ লক্ষ হাদিসের অমীয় বাণীতারা মুখস্থ করেছেন কেবল আঙুলের ডগা দিয়ে। সাফল্যের এই মিছিলে এবার রচিত হলো এক অনন্য ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র হাফেজ জুবায়ের ও হাফেজ আব্দুর রহমান এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরদাওরায়ে হাদিসবা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, কিতাব পড়ার জন্য চোখের জ্যোতির চেয়ে হৃদয়ের ব্যাকুলতা বেশি প্রয়োজন।

আর সেই অদম্য সাধনার পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন জীবনের শ্রেষ্ঠতম পাওয়া। তারা পবিত্র ওমরাহ পালন করে ফিরে এসেছেন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার মানচিত্র দেখেনি, তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন কাবার শীতল গিলাফ। কাবা ঘরের দেয়ালে যখন তাদের হাত পড়েছে, তখন তাদের হৃদপিণ্ড হয়তো ডুকরে কেঁদে বলে উঠেছেহে মাবুদ, চোখ দাওনি তাতে আক্ষেপ নেই, আজ তোমার ঘর ছুঁয়ে দেখার এই তৃপ্তিই যে কোটি চোখের চাইতেও দামী! তারা ওমরাহ শেষ করে ফিরে এসেছেন এক বুক প্রশান্তি আর এক অনন্য বিজয় নিয়ে। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিলোসুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের চোখে আলো নেই সত্য, কিন্তু তাদের হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের রাজপথ স্পষ্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মনমানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা, বাথরুমে বন্দি ছাত্রীকে অবশেষে উদ্ধার

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন বাংলাদেশের ২ অন্ধ হাফেজ

আপডেট সময় ০৪:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

এবার রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানেরমাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’-এর অন্ধ বিভাগের ২ অন্ধ হাফেজ দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন। তারা পৃথিবীর ধুলোবালি দেখেনি, কিন্তু তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে, তখন তারা সরাসরি অনুভব করে আরশের মালিকের নূর। হাজার হাজার পৃষ্ঠা, লক্ষ লক্ষ হাদিসের অমীয় বাণীতারা মুখস্থ করেছেন কেবল আঙুলের ডগা দিয়ে। সাফল্যের এই মিছিলে এবার রচিত হলো এক অনন্য ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র হাফেজ জুবায়ের ও হাফেজ আব্দুর রহমান এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরদাওরায়ে হাদিসবা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, কিতাব পড়ার জন্য চোখের জ্যোতির চেয়ে হৃদয়ের ব্যাকুলতা বেশি প্রয়োজন।

আর সেই অদম্য সাধনার পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন জীবনের শ্রেষ্ঠতম পাওয়া। তারা পবিত্র ওমরাহ পালন করে ফিরে এসেছেন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার মানচিত্র দেখেনি, তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন কাবার শীতল গিলাফ। কাবা ঘরের দেয়ালে যখন তাদের হাত পড়েছে, তখন তাদের হৃদপিণ্ড হয়তো ডুকরে কেঁদে বলে উঠেছেহে মাবুদ, চোখ দাওনি তাতে আক্ষেপ নেই, আজ তোমার ঘর ছুঁয়ে দেখার এই তৃপ্তিই যে কোটি চোখের চাইতেও দামী! তারা ওমরাহ শেষ করে ফিরে এসেছেন এক বুক প্রশান্তি আর এক অনন্য বিজয় নিয়ে। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিলোসুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের চোখে আলো নেই সত্য, কিন্তু তাদের হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের রাজপথ স্পষ্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মনমানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে।