ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম  গ্যাস্ট্রিক-ক্যানসার বলে মিথ্যা অসুস্থতার সার্টিফিকেট দিয়েছেন কামরুল ইসলাম: চিফ প্রসিকিউটর মাদকের টাকার জন্য নিজের ঘরের টিনের বেড়া খুলে নিলেন যুবক পুরোনো ছবি দিয়ে অপপ্রচার, বাস্তবে ডুবে যায়নি চট্টগ্রাম: প্রতিমন্ত্রী টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭ হাজার একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষকরা তুরস্কে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি ক্বারীর বিশ্বজয় নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা: আদালতে আসামির আপিল খারিজ গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ থাকবে: জাহেদ উর রহমান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি, করিডোর অপপ্রচার ‘সর্বৈব মিথ্যা’ — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
  • ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাবিত ত্রাণ চ্যানেলকে কেন্দ্র করে “বাংলাদেশ করিডোর দিয়েছে” — এমন অপপ্রচারকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’‘চিলে কান নেওয়ার গল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে একটি ত্রাণ চ্যানেলের প্রস্তাব করেছিলেন, যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু বিষয়টি এখনো কেবল প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মিয়ানমারকে করিডোর দিয়েছে — এটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপপ্রচার। এর পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে নতুন করে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে রাখাইনের যুদ্ধাবস্থার কারণে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্ররা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ নিউইয়র্কে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, মিয়ানমার সরকার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ লক্ষ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, “আমরা যত দেশে সফর করেছি, সেসব দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা করেছি, তাদের সহানুভূতিশীল মনোভাব পেয়েছি।”

সবশেষে তিনি দেশের জনগণকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই জটিল সমস্যার সমাধানে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, লক্ষ্যচ্যুত হব না।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি, করিডোর অপপ্রচার ‘সর্বৈব মিথ্যা’ — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আপডেট সময় ০৯:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাবিত ত্রাণ চ্যানেলকে কেন্দ্র করে “বাংলাদেশ করিডোর দিয়েছে” — এমন অপপ্রচারকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’‘চিলে কান নেওয়ার গল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে একটি ত্রাণ চ্যানেলের প্রস্তাব করেছিলেন, যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু বিষয়টি এখনো কেবল প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মিয়ানমারকে করিডোর দিয়েছে — এটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপপ্রচার। এর পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে নতুন করে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে রাখাইনের যুদ্ধাবস্থার কারণে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্ররা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ নিউইয়র্কে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, মিয়ানমার সরকার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ লক্ষ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, “আমরা যত দেশে সফর করেছি, সেসব দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা করেছি, তাদের সহানুভূতিশীল মনোভাব পেয়েছি।”

সবশেষে তিনি দেশের জনগণকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই জটিল সমস্যার সমাধানে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, লক্ষ্যচ্যুত হব না।”