ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০ নিজেদের সক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল ৭২-এর সংবিধান মোতাবেক শেখ হাসিনা এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী: ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে, তারাই আজ গণভোটকে অস্বীকার করছে’ কোনো আদুভাই, দাদুভাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেনে নেবো না: জামায়াত আমির

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় বাতিল করার দাবিতে ‘ল’ ফার্মের চিঠি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

এবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চিঠি পাঠিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি। গত সোমবার ট্রাইব্যুনালের ইমেইলে পাঠানো ওই চিঠিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারের রায় বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। শেখ হাসিনার পক্ষে গত ৩০ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বরাবর ইমেইলের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠায় কিংসলি ন্যাপলি।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার রুহুল ইমরান এবং চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রসিকিউটর গণমাধ্যম থেকে চিঠিটি তারা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায্য বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এতে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ; অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে যথাযথ অবহিতকরণ এবং নিজ পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছিল। বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান কৌঁসুলির বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিচার চলাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়েও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ল ফার্মটি চিঠিতে দাবি করেছে, আইসিটির এখতিয়ার প্রসারিত করে ২০২৪ সালের ঘটনাবলির বিচার করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে এবং ভূতাপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এ ধরনের অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচার হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচারের অধিকার, সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই এবং প্রতিরক্ষার সুযোগসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি এ ধরনের বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা সামারি এক্সিকিউশন বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এ অবস্থায় চিঠিতে আইসিটির রায় বাতিল ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বিচার পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আইনি প্রতিনিধিরা ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় বাতিল করার দাবিতে ‘ল’ ফার্মের চিঠি

আপডেট সময় ১০:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

এবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চিঠি পাঠিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি। গত সোমবার ট্রাইব্যুনালের ইমেইলে পাঠানো ওই চিঠিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারের রায় বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। শেখ হাসিনার পক্ষে গত ৩০ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বরাবর ইমেইলের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠায় কিংসলি ন্যাপলি।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার রুহুল ইমরান এবং চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রসিকিউটর গণমাধ্যম থেকে চিঠিটি তারা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায্য বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এতে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ; অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে যথাযথ অবহিতকরণ এবং নিজ পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছিল। বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান কৌঁসুলির বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিচার চলাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়েও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ল ফার্মটি চিঠিতে দাবি করেছে, আইসিটির এখতিয়ার প্রসারিত করে ২০২৪ সালের ঘটনাবলির বিচার করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে এবং ভূতাপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এ ধরনের অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচার হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচারের অধিকার, সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই এবং প্রতিরক্ষার সুযোগসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি এ ধরনের বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা সামারি এক্সিকিউশন বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এ অবস্থায় চিঠিতে আইসিটির রায় বাতিল ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বিচার পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আইনি প্রতিনিধিরা ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।