ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অবশেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে’, এবার ভবিষ্যদ্বাণী ঘানার তান্ত্রিক বোন্সামের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রদর্শন আরও কিছুদিন বিরোধী দলে থাকুন, সমালোচনা শিখে যাবেন নকআউটের পথে স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা, বিপাকে ইউরোপের বড় দলগুলো খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর, নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের কড়াইলসহ ৫৮ স্থানে এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা চলতি বছরই দেশে ফিরব, বাধা-ষড়যন্ত্রে ভয় পাই না: শেখ হাসিনা চাঁদাবাজি-মাদকে ‘মার্কিন বাবু’ আটক, জিজ্ঞাসাবাদে মুক্ত সিরাজগঞ্জে আপত্তিকর অবস্থায় আটক ইমাম

আটকেপড়া বাংলাদেশের ৬ জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে অনুমতি দিলো ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৫১ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অবশেষে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।  তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ইতিমধ্যে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। বর্তমানে আটকে থাকা এই ছয়টি জাহাজকে নিরাপদ পরিবেশে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইরান সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী এই সৌজন্যমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

তার মতে, বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবলউদ্বেগপ্রকাশ যথেষ্ট নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে স্পষ্টনিন্দাজানানো প্রয়োজন ছিল বলে ইরান মনে করে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভাইপ্রতিম দেশ। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো সংকটের সময়ে দুই দেশ সবসময় একে অপরের পাশে শক্ত অবস্থানে থেকে সহযোগিতা করবে। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্যে থাকা অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিনইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই জাহাজগুলোও সেখানে আটকা পড়ে। বর্তমানে জাহাজগুলোর যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া তদারকি করছে ইরানের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ছাড়াই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। তবে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদীর বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন ও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব আশা করছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আটকেপড়া বাংলাদেশের ৬ জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে অনুমতি দিলো ইরান

আপডেট সময় ১২:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অবশেষে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।  তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ইতিমধ্যে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। বর্তমানে আটকে থাকা এই ছয়টি জাহাজকে নিরাপদ পরিবেশে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইরান সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী এই সৌজন্যমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

তার মতে, বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবলউদ্বেগপ্রকাশ যথেষ্ট নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে স্পষ্টনিন্দাজানানো প্রয়োজন ছিল বলে ইরান মনে করে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভাইপ্রতিম দেশ। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো সংকটের সময়ে দুই দেশ সবসময় একে অপরের পাশে শক্ত অবস্থানে থেকে সহযোগিতা করবে। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্যে থাকা অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিনইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই জাহাজগুলোও সেখানে আটকা পড়ে। বর্তমানে জাহাজগুলোর যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া তদারকি করছে ইরানের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ছাড়াই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। তবে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদীর বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন ও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব আশা করছে।