এবার পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন ফুটন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। ইরান ও মার্কিন–ইসরাইলি জোটের মধ্যকার যুদ্ধ রোববার এক চরম নাটকীয় মোড়ে পৌঁছেছে। গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন হামলায় ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’ ডুবিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে এবার সরাসরি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে টার্গেট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন যখনই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসবে, তখনই আমরা বিভিন্ন ধরণের ‘সি–টু–সি’ মিসাইল ছুঁড়ে ‘ডেনা’র শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব। উল্লেখ্য, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর জেয়ার্ল্ড আর ফোর্ডসহ অন্যান্য শক্তিশালী ক্যারিয়ারগুলো মেরামতের জন্য মাঠের বাইরে থাকায়, এই আব্রাহাম লিঙ্কনই এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান হামলার মূল ভরসা।
গত ৪ মার্চ গালের কাছে ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় ‘ডেনা’ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৮০ থেকে ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হন। সেই শোক এখন তেহরানের জন্য বারুদে পরিণত হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা শুধু প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সাগরের বুকেই মার্কিন দম্ভ চূর্ণ করবে। যুদ্ধের আঁচ কেবল রণক্ষেত্রে নয়, পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের পকেটেও। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ফলে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি হামলায় ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও বেসামরিক অবকাঠামো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে চিত্রটা ভিন্ন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নতুন করে ৩,৫০০ মেরিন সেনা পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। গুঞ্জন রয়েছে, আমেরিকা শিগগিরই ইরানের খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালী দখলের জন্য স্থল অভিযান শুরু করতে পারে।
এই খবরের প্রেক্ষিতে ইরানের প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, শত্রু মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের জওয়ানরা মার্কিন সেনাদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যাতে তাদের আগুনের শিখায় পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক দোসরদের চিরতরে শিক্ষা দেওয়া যায়। সহজ কথায়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্র এখন ধ্বংসের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। একদিকে মার্কিন মেরিন সেনাদের আগমন, অন্যদিকে ইরানের মিসাইল– সব মিলিয়ে এক মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই ও প্রেস টিভি

ডেস্ক রিপোর্ট 
























