ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম  গ্যাস্ট্রিক-ক্যানসার বলে মিথ্যা অসুস্থতার সার্টিফিকেট দিয়েছেন কামরুল ইসলাম: চিফ প্রসিকিউটর মাদকের টাকার জন্য নিজের ঘরের টিনের বেড়া খুলে নিলেন যুবক পুরোনো ছবি দিয়ে অপপ্রচার, বাস্তবে ডুবে যায়নি চট্টগ্রাম: প্রতিমন্ত্রী টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭ হাজার একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষকরা তুরস্কে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি ক্বারীর বিশ্বজয় নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা: আদালতে আসামির আপিল খারিজ গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ থাকবে: জাহেদ উর রহমান

যুদ্ধের মধ্যে ইরানে ‘বিজয়’ উদযাপন, রাজধানীতে উল্লাস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

এবার যুদ্ধের মধ্যে ইরানেবিজয়উদযাপন করেছেন বাসিন্দারা। এজন্য রাজধানীতে রাস্তায় নেমে এসেছেন সরকারপন্থিরা। ইরানে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী উপলক্ষে তারা এ উৎসবে অংশ নিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিযুদ্ধজয়েরপ্রত্যাশায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (০১ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে রাজধানী তেহরানে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দিনটিইসলামিক রিপাবলিক ডেহিসেবে পালিত হয়, যেদিন ১৯৭৯ সালের গণভোটে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রাতের উদযাপনের পর বুধবার ভোরে তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ওই এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও ধোঁয়া দেখা গেছে। এলাকাটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা সুরক্ষিত।

এদিকে বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রে ১৫০ মিটার উঁচু ও ৩০০ কেজি ওজনের দেশের সবচেয়ে বড় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারপন্থি নেতারা সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যে কোনো ধরনের বিরোধিতা বা সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদানপ্রদান করছেন, তবে আলোচনার প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেননি। তিনি বলেন, সমর্থকদের সঙ্গে একত্র হয়েমনোবল অর্জনকরতেই তিনি রাস্তায় নেমেছেন। এদিকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে রাস্তায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে মানুষআমেরিকার মৃত্যুএবংইসরায়েলের মৃত্যুস্লোগান দিচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইআরজিসির সহযোগী বাহিনী বাসিজসহ অন্যান্য বাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল ও চেকপোস্ট বসিয়েছে। এছাড়া ইরানের মিত্র ইরাকি বাহিনী হাশদ আলশাবির (পিএমএফ) সদস্যদেরও তেহরানের রাস্তায় উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরান বিদেশি মিত্র বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ

যুদ্ধের মধ্যে ইরানে ‘বিজয়’ উদযাপন, রাজধানীতে উল্লাস

আপডেট সময় ০৯:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

এবার যুদ্ধের মধ্যে ইরানেবিজয়উদযাপন করেছেন বাসিন্দারা। এজন্য রাজধানীতে রাস্তায় নেমে এসেছেন সরকারপন্থিরা। ইরানে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী উপলক্ষে তারা এ উৎসবে অংশ নিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিযুদ্ধজয়েরপ্রত্যাশায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (০১ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে রাজধানী তেহরানে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দিনটিইসলামিক রিপাবলিক ডেহিসেবে পালিত হয়, যেদিন ১৯৭৯ সালের গণভোটে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রাতের উদযাপনের পর বুধবার ভোরে তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ওই এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও ধোঁয়া দেখা গেছে। এলাকাটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা সুরক্ষিত।

এদিকে বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রে ১৫০ মিটার উঁচু ও ৩০০ কেজি ওজনের দেশের সবচেয়ে বড় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারপন্থি নেতারা সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যে কোনো ধরনের বিরোধিতা বা সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদানপ্রদান করছেন, তবে আলোচনার প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেননি। তিনি বলেন, সমর্থকদের সঙ্গে একত্র হয়েমনোবল অর্জনকরতেই তিনি রাস্তায় নেমেছেন। এদিকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে রাস্তায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে মানুষআমেরিকার মৃত্যুএবংইসরায়েলের মৃত্যুস্লোগান দিচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইআরজিসির সহযোগী বাহিনী বাসিজসহ অন্যান্য বাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল ও চেকপোস্ট বসিয়েছে। এছাড়া ইরানের মিত্র ইরাকি বাহিনী হাশদ আলশাবির (পিএমএফ) সদস্যদেরও তেহরানের রাস্তায় উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরান বিদেশি মিত্র বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ।