ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

“বাবা আমাকে বুকে নাও, আমাকে পানি দাও”—চার বছর তিন মাস বয়সী আকিরা হায়দার আরশির শেষ আকুতি আজও কানে বাজছে বাবা আল আমিনের। কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধে তিনি এগিয়ে যেতে পারেননি। মেয়েকে কোলে নেওয়া হয়নি, পানিও দিতে পারেননি। সেই না-পারা আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা হয়ে রয়ে গেছে।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ডা. এম আর খান শিশু হসপিটাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ-এর পিআইসিইউতে ১ এপ্রিল দুপুরে বাবা–মেয়ের এই শেষ কথোপকথন হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা আকিরাকে ২ এপ্রিল রাত আটটার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়, হাম (মিজেলস), শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ, সারা শরীরে সংক্রমণ এবং সম্ভাব্য জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটির জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।

আল আমিন জানান, গত ২৭ দিনে মেয়েকে নিয়ে তিনি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। মিরপুরের এই হাসপাতাল ছাড়াও ডেলটা হাসপাতাল ও গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঁচ দফায় ভর্তি করা হয়েছিল আকিরাকে। নিউমোনিয়া ও হামসহ নানা জটিলতায় ধীরে ধীরে নিভে যায় ছোট্ট প্রাণটি।

মিরপুরের টোলারবাগে বসবাসকারী আল আমিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। স্ত্রী সানজিদা হক, মেয়ে আকিরা ও ১৫ মাস বয়সী ছেলে আদিয়ানকে নিয়ে ছিল তাদের ছোট সংসার। আকিরার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও ছেলেকে মাদারীপুরে রেখে তিনি আবার ঢাকায় ফিরেছেন—শুধু স্মৃতির ভারে ভেঙে পড়তে।

তিনি বলেন,
“ঘরের চারপাশে শুধু মেয়েটার স্মৃতি। দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি আর থাকতে পারছি না।”

নানির বাসায় ছড়িয়ে আছে আকিরার প্রিয় খেলনা—পুতুল, মেকআপ বক্স, খেলনা স্টেথোস্কোপ, গোলাপি মোটরবাইক আর ছোট্ট গিটার। হাসপাতালের বিছানাতেও এসব নিয়ে খেলেছিল সে। সেই মুহূর্তগুলো ভিডিও করে রেখেছিলেন বাবা—এখন সেগুলোই তাঁর অসহনীয় কষ্টের কারণ।

আকিরার খালা পুষ্পিতা হক দেখালেন ঈদের জন্য কেনা নতুন জামা। ভিডিও কলে নিজেই পছন্দ করেছিল পোশাকটি। কিন্তু সেটি আর পরা হয়নি। ২১ মার্চ ঈদের দিনটিও কাটে হাসপাতালের বিছানায়। ৮ মার্চ থেকেই শুরু হয়েছিল তার বেঁচে থাকার লড়াই।

পরিবারের সবার আদরের প্রথম নাতনি আকিরা এখন চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে মাদারীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে—একাকী।
আর বাবা আল আমিনের মনে শুধু একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—শেষবার মেয়ের সেই ছোট্ট আবদারটুকু কেন তিনি পূরণ করতে পারলেন না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

আপডেট সময় ০২:২১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

“বাবা আমাকে বুকে নাও, আমাকে পানি দাও”—চার বছর তিন মাস বয়সী আকিরা হায়দার আরশির শেষ আকুতি আজও কানে বাজছে বাবা আল আমিনের। কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধে তিনি এগিয়ে যেতে পারেননি। মেয়েকে কোলে নেওয়া হয়নি, পানিও দিতে পারেননি। সেই না-পারা আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা হয়ে রয়ে গেছে।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ডা. এম আর খান শিশু হসপিটাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ-এর পিআইসিইউতে ১ এপ্রিল দুপুরে বাবা–মেয়ের এই শেষ কথোপকথন হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা আকিরাকে ২ এপ্রিল রাত আটটার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়, হাম (মিজেলস), শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ, সারা শরীরে সংক্রমণ এবং সম্ভাব্য জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটির জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।

আল আমিন জানান, গত ২৭ দিনে মেয়েকে নিয়ে তিনি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। মিরপুরের এই হাসপাতাল ছাড়াও ডেলটা হাসপাতাল ও গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঁচ দফায় ভর্তি করা হয়েছিল আকিরাকে। নিউমোনিয়া ও হামসহ নানা জটিলতায় ধীরে ধীরে নিভে যায় ছোট্ট প্রাণটি।

মিরপুরের টোলারবাগে বসবাসকারী আল আমিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। স্ত্রী সানজিদা হক, মেয়ে আকিরা ও ১৫ মাস বয়সী ছেলে আদিয়ানকে নিয়ে ছিল তাদের ছোট সংসার। আকিরার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও ছেলেকে মাদারীপুরে রেখে তিনি আবার ঢাকায় ফিরেছেন—শুধু স্মৃতির ভারে ভেঙে পড়তে।

তিনি বলেন,
“ঘরের চারপাশে শুধু মেয়েটার স্মৃতি। দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি আর থাকতে পারছি না।”

নানির বাসায় ছড়িয়ে আছে আকিরার প্রিয় খেলনা—পুতুল, মেকআপ বক্স, খেলনা স্টেথোস্কোপ, গোলাপি মোটরবাইক আর ছোট্ট গিটার। হাসপাতালের বিছানাতেও এসব নিয়ে খেলেছিল সে। সেই মুহূর্তগুলো ভিডিও করে রেখেছিলেন বাবা—এখন সেগুলোই তাঁর অসহনীয় কষ্টের কারণ।

আকিরার খালা পুষ্পিতা হক দেখালেন ঈদের জন্য কেনা নতুন জামা। ভিডিও কলে নিজেই পছন্দ করেছিল পোশাকটি। কিন্তু সেটি আর পরা হয়নি। ২১ মার্চ ঈদের দিনটিও কাটে হাসপাতালের বিছানায়। ৮ মার্চ থেকেই শুরু হয়েছিল তার বেঁচে থাকার লড়াই।

পরিবারের সবার আদরের প্রথম নাতনি আকিরা এখন চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে মাদারীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে—একাকী।
আর বাবা আল আমিনের মনে শুধু একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—শেষবার মেয়ের সেই ছোট্ট আবদারটুকু কেন তিনি পূরণ করতে পারলেন না।