ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, প্রতিরোধের পূর্ণ প্রস্তুতিতে ইরান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য রক্ত দিয়ে গেছে: ফজলুর রহমান ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে শিশু হত্যা মামলা হওয়া প্রয়োজন: আইনজীবী সুব্রত ভুয়া বিল দেখিয়ে ৬৪ লাখ টাকা নিয়েছেন উপদেষ্টা ফারুকী: মাসুদ কামাল আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও আমার সঙ্গে একমত: ট্রাম্প গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ বজ্রাঘাতে কোল থেকে ছিটকে পড়ে ছোট্ট সাফিয়া, প্রাণ গেল বাবার চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

এবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রুদ্ধশ্বাস ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত মানুষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অসীম সাহসিকতায় সন্তানকে নিজের বুকের সাথে জাপটে ধরে রেললাইনের ওপর স্থির হয়ে শুয়ে থাকেনএক বাবা। ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পর বাবা ও ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনাটি ঘটে। এই রোমহর্ষক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রাম থেকে আসা ওই দম্পতি তাদের দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশনে পৌঁছায়। দম্পতিটি একটি কামরায় উঠতে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু সন্তান দুজনই প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সরু ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান।

অত্যন্ত সংকীর্ণ সেই স্থান থেকে মা কোনোভাবে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে উঠে আসতে সক্ষম হলেও কোলের শিশুটিকে ওপরে টেনে তুলতে পারেননি। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বেজে ওঠে। কোলের সন্তানকে নিচে রেখেই ট্রেন চলতে শুরু করছে দেখে বাবা আর কালক্ষেপণ না করে জীবন বাজি রেখে নিচে লাফিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি শিশুটিকে কোলবালিশের মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লাইনের পাশে স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন। ট্রেনের কামরাগুলো যখন তাদের ওপর দিয়ে এক এক করে চলে যাচ্ছিল, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করেআল্লাহ আল্লাহকরছিলেন।

ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রেললাইনের ওপর শুয়ে আছেন। উপস্থিত জনতা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন। তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া, যিনি ঘটনার পরপরই তাদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি জানান যে বাবার একটু নড়াচড়া করলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। বাবার অসীম ধৈর্য ও কোলের সন্তানকে রক্ষা করার দৃঢ়তা দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি বিলম্বে আসায় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেই ভিড়ে উঠতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও তাদের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত লাগেনি। পুলিশ তাদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা আতঙ্কিত থাকায় ঢাকায় না গিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই দম্পতি কটিয়াদীর লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, প্রতিরোধের পূর্ণ প্রস্তুতিতে ইরান

চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা

আপডেট সময় ১০:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রুদ্ধশ্বাস ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত মানুষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অসীম সাহসিকতায় সন্তানকে নিজের বুকের সাথে জাপটে ধরে রেললাইনের ওপর স্থির হয়ে শুয়ে থাকেনএক বাবা। ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পর বাবা ও ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনাটি ঘটে। এই রোমহর্ষক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রাম থেকে আসা ওই দম্পতি তাদের দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে স্টেশনে পৌঁছায়। দম্পতিটি একটি কামরায় উঠতে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু সন্তান দুজনই প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সরু ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান।

অত্যন্ত সংকীর্ণ সেই স্থান থেকে মা কোনোভাবে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে উঠে আসতে সক্ষম হলেও কোলের শিশুটিকে ওপরে টেনে তুলতে পারেননি। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার বাঁশি বেজে ওঠে। কোলের সন্তানকে নিচে রেখেই ট্রেন চলতে শুরু করছে দেখে বাবা আর কালক্ষেপণ না করে জীবন বাজি রেখে নিচে লাফিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি শিশুটিকে কোলবালিশের মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লাইনের পাশে স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন। ট্রেনের কামরাগুলো যখন তাদের ওপর দিয়ে এক এক করে চলে যাচ্ছিল, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করেআল্লাহ আল্লাহকরছিলেন।

ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রেললাইনের ওপর শুয়ে আছেন। উপস্থিত জনতা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন। তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া, যিনি ঘটনার পরপরই তাদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি জানান যে বাবার একটু নড়াচড়া করলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। বাবার অসীম ধৈর্য ও কোলের সন্তানকে রক্ষা করার দৃঢ়তা দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি বিলম্বে আসায় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেই ভিড়ে উঠতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও তাদের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত লাগেনি। পুলিশ তাদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা আতঙ্কিত থাকায় ঢাকায় না গিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই দম্পতি কটিয়াদীর লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।