ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় না আসতেই বিখ্যাত ‘সিরাজ উদ্যান’ নাম হয়ে গেল ‘শিবাজি উদ্যান’ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে: সেনাপ্রধান সরকার গঠনের ৪৫ দিনেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ‘জমি’ দেবে বিজেপি: এনডিটিভি সৌদি থেকে ১ লাখ টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মাস্টার ট্যাঙ্কার বিশ্বকাপে ১ টিকিটের দাম ২৪ কোটি টাকা, ‘যুক্তিসঙ্গত’ বললেন ফিফা সভাপতি বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা এডুকেশন হাব: শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা নীলা ইসরাফিলের তিতুমীরে হল কমিটি ছাত্রদলের, পদ পাওয়া নেত্রীরাও বলছেন—‘আমরা রাজনীতি চাই না’ বিজয়ের দলকে সমর্থন কংগ্রেসের, কেমন হবে ক্ষমতার ভাগাভাগি মাদ্রাসায় ধর্ষণে ১২ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা: অভিযুক্ত সেই শিক্ষককে আটক করেছে র‍্যাব

বিজয়ের দলকে সমর্থন কংগ্রেসের, কেমন হবে ক্ষমতার ভাগাভাগি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয় থালাপাতির বিপুল জয়ের পর, তার দলকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এনডিটিভিকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ, রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি সরকার গঠনে বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগামকে (টিভিকে)  টিভিকেকে সমর্থন করার জন্য টিএনসিসিকে অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্র জানায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিজয়ের দল টিভিকেকে সমর্থন করার পক্ষেই ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি খার্গে চেয়েছিলেন দিল্লির নেতাদের পরিবর্তে তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিক। কংগ্রেস রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির গভীর রাতের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তামিলনাড়ু ইউনিটকে টিভিকের সরকার গঠনে সমর্থন দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়। সূত্রমতে, কংগ্রেস বিজয়ের সরকারে দুটি মন্ত্রীর পদ আশা করছে। তারা আরও জানায়, কংগ্রেস নেতা গিরিশ চোডানকর এবং প্রবীণ চক্রবর্তী টিভিকে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে, দলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত রেখেছিলটিভিকে অবশ্যই এনডিএ বা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সহ এর মিত্রদের সঙ্গে জোট করতে পারবে না।

তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র জমা দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিজয়ের আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়। কংগ্রেসডিএমকে জোট, যা রাজ্যের নির্বাচনী অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তা এখন ভেঙে গেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিএমকে মুখপাত্র এ সারাভানান কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকেবিশ্বাসঘাতকতাবলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে ডিএমকের সমর্থন ছাড়া দলটি তার পাঁচটি আসন জিততে পারত না।

কংগ্রেসের জন্য, এটি কয়েক দশক পর তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে ফেরারও ইঙ্গিত দেয়, যে রাজ্যটি তারা একসময় স্বাধীনভাবে শাসন করত। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০৮টি আসন হাতে নিয়ে টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে ছিল। এখন কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায় দলটির ১১৩ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। টিভিকের অভ্যন্তরীণ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছিল যে, তারা ডিএমকের অন্যান্য প্রধান মিত্র দলসিপিআই (দুটি আসন), সিপিএম (দুটি আসন) এবং ভিসিকে (দুটি আসন)-এর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে,  বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাতে হবে। কেবল এরপরই তিনি শপথ নিতে পারবেন। বিজয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক্সে তার প্রথম বিজয়পরবর্তী বিবৃতিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে টিভিকেকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দল শুরু করার পর অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। আমরা সবকিছু জয় করেছি। জনগণের ওপর আস্থা রেখে আমরা একাই দাঁড়িয়েছিলাম। নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে অপমান এবং সমালোচনা আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে। কিন্তু যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে আমরা রাজনীতিতে এসেছিলামআমাদের আপনজনেরা, আমাদের তামিলনাড়ু, তারা সবসময় মায়ের মতো আমাদের সমর্থন করে এসেছে এবং এখনও করে চলেছে।এক্সএ তামিল ভাষায় লেখা এক দীর্ঘ পোস্টে বিজয় এসব কথা বলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় না আসতেই বিখ্যাত ‘সিরাজ উদ্যান’ নাম হয়ে গেল ‘শিবাজি উদ্যান’

বিজয়ের দলকে সমর্থন কংগ্রেসের, কেমন হবে ক্ষমতার ভাগাভাগি

আপডেট সময় ১০:২৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

এবার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয় থালাপাতির বিপুল জয়ের পর, তার দলকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এনডিটিভিকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ, রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি সরকার গঠনে বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগামকে (টিভিকে)  টিভিকেকে সমর্থন করার জন্য টিএনসিসিকে অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্র জানায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিজয়ের দল টিভিকেকে সমর্থন করার পক্ষেই ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি খার্গে চেয়েছিলেন দিল্লির নেতাদের পরিবর্তে তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিক। কংগ্রেস রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির গভীর রাতের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তামিলনাড়ু ইউনিটকে টিভিকের সরকার গঠনে সমর্থন দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়। সূত্রমতে, কংগ্রেস বিজয়ের সরকারে দুটি মন্ত্রীর পদ আশা করছে। তারা আরও জানায়, কংগ্রেস নেতা গিরিশ চোডানকর এবং প্রবীণ চক্রবর্তী টিভিকে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে, দলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত রেখেছিলটিভিকে অবশ্যই এনডিএ বা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সহ এর মিত্রদের সঙ্গে জোট করতে পারবে না।

তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র জমা দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিজয়ের আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়। কংগ্রেসডিএমকে জোট, যা রাজ্যের নির্বাচনী অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তা এখন ভেঙে গেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিএমকে মুখপাত্র এ সারাভানান কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকেবিশ্বাসঘাতকতাবলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে ডিএমকের সমর্থন ছাড়া দলটি তার পাঁচটি আসন জিততে পারত না।

কংগ্রেসের জন্য, এটি কয়েক দশক পর তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে ফেরারও ইঙ্গিত দেয়, যে রাজ্যটি তারা একসময় স্বাধীনভাবে শাসন করত। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০৮টি আসন হাতে নিয়ে টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে ছিল। এখন কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায় দলটির ১১৩ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। টিভিকের অভ্যন্তরীণ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছিল যে, তারা ডিএমকের অন্যান্য প্রধান মিত্র দলসিপিআই (দুটি আসন), সিপিএম (দুটি আসন) এবং ভিসিকে (দুটি আসন)-এর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে,  বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাতে হবে। কেবল এরপরই তিনি শপথ নিতে পারবেন। বিজয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক্সে তার প্রথম বিজয়পরবর্তী বিবৃতিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে টিভিকেকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দল শুরু করার পর অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। আমরা সবকিছু জয় করেছি। জনগণের ওপর আস্থা রেখে আমরা একাই দাঁড়িয়েছিলাম। নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে অপমান এবং সমালোচনা আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে। কিন্তু যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে আমরা রাজনীতিতে এসেছিলামআমাদের আপনজনেরা, আমাদের তামিলনাড়ু, তারা সবসময় মায়ের মতো আমাদের সমর্থন করে এসেছে এবং এখনও করে চলেছে।এক্সএ তামিল ভাষায় লেখা এক দীর্ঘ পোস্টে বিজয় এসব কথা বলেন।