এবার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয় থালাপাতির বিপুল জয়ের পর, তার দলকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এনডিটিভিকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ, রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি সরকার গঠনে বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগামকে (টিভিকে) টিভিকে–কে সমর্থন করার জন্য টিএনসিসি–কে অনুমোদন দিয়েছে।’
সূত্র জানায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিজয়ের দল টিভিকে–কে সমর্থন করার পক্ষেই ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি খার্গে চেয়েছিলেন দিল্লির নেতাদের পরিবর্তে তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিক। কংগ্রেস রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির গভীর রাতের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তামিলনাড়ু ইউনিটকে টিভিকে–র সরকার গঠনে সমর্থন দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়। সূত্রমতে, কংগ্রেস বিজয়ের সরকারে দুটি মন্ত্রীর পদ আশা করছে। তারা আরও জানায়, কংগ্রেস নেতা গিরিশ চোডানকর এবং প্রবীণ চক্রবর্তী টিভিকে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে, দলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত রেখেছিল – টিভিকে অবশ্যই এনডিএ বা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সহ এর মিত্রদের সঙ্গে জোট করতে পারবে না।
তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র জমা দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিজয়ের আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়। কংগ্রেস–ডিএমকে জোট, যা রাজ্যের নির্বাচনী অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তা এখন ভেঙে গেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিএমকে মুখপাত্র এ সারাভানান কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে ডিএমকে–র সমর্থন ছাড়া দলটি তার পাঁচটি আসন জিততে পারত না।
কংগ্রেসের জন্য, এটি কয়েক দশক পর তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে ফেরারও ইঙ্গিত দেয়, যে রাজ্যটি তারা একসময় স্বাধীনভাবে শাসন করত। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০৮টি আসন হাতে নিয়ে টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে ছিল। এখন কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায় দলটির ১১৩ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। টিভিকে–র অভ্যন্তরীণ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছিল যে, তারা ডিএমকে–র অন্যান্য প্রধান মিত্র দল—সিপিআই (দুটি আসন), সিপিএম (দুটি আসন) এবং ভিসিকে (দুটি আসন)-এর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাতে হবে। কেবল এরপরই তিনি শপথ নিতে পারবেন। বিজয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক্সে তার প্রথম বিজয়–পরবর্তী বিবৃতিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে টিভিকে–কে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ‘দল শুরু করার পর অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। আমরা সবকিছু জয় করেছি। জনগণের ওপর আস্থা রেখে আমরা একাই দাঁড়িয়েছিলাম। নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে অপমান এবং সমালোচনা আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে। কিন্তু যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে আমরা রাজনীতিতে এসেছিলাম – আমাদের আপনজনেরা, আমাদের তামিলনাড়ু, তারা সবসময় মায়ের মতো আমাদের সমর্থন করে এসেছে এবং এখনও করে চলেছে।’ এক্স–এ তামিল ভাষায় লেখা এক দীর্ঘ পোস্টে বিজয় এসব কথা বলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















