ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ওই সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

 

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ (শক্তি) ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

 

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে ছিল। এ সময় নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ওই সরকারে অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। আগে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব প্রশাসনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল। রিজার্ভ কমে গিয়েছিল, চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক ছিল।

 

তিনি বলেন, অনেকে পরিবর্তন দেখতে চান, কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। সেই সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরাতে হয়েছে।

 

দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।

 

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খাতেও সুশাসনের অভাব রয়েছে। জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হওয়ায় বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছর চলে, পাঁচ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ২০ বছরও লাগে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনও অনেক বেশি, তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমান অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে। চাইলে বাংলাদেশও পারবে।

 

সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হচ্ছে, যেখানে যোগ্যতার মাপকাঠিও বদলে যাচ্ছে দ্রুত। সীমিত সুযোগের এই ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, আধুনিক দক্ষতা এবং বিরামহীন প্রচেষ্টা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব

আপডেট সময় ১১:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ওই সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

 

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ (শক্তি) ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

 

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে ছিল। এ সময় নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ওই সরকারে অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। আগে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব প্রশাসনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল। রিজার্ভ কমে গিয়েছিল, চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক ছিল।

 

তিনি বলেন, অনেকে পরিবর্তন দেখতে চান, কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। সেই সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরাতে হয়েছে।

 

দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।

 

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খাতেও সুশাসনের অভাব রয়েছে। জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হওয়ায় বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছর চলে, পাঁচ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ২০ বছরও লাগে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনও অনেক বেশি, তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমান অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে। চাইলে বাংলাদেশও পারবে।

 

সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হচ্ছে, যেখানে যোগ্যতার মাপকাঠিও বদলে যাচ্ছে দ্রুত। সীমিত সুযোগের এই ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, আধুনিক দক্ষতা এবং বিরামহীন প্রচেষ্টা।