ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা স্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে টুকরো অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন মালয়েশিয়া-প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়। এরপর তারা বিয়ে করেন। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

 

নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

এরপর আসমা আক্তার জিয়ার মরদেহ ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। পরে একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কয়েক টুকরো বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

 

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

 

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে জিয়ার চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত জিয়ার আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করে বলেন, আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করত। ঘটনার দিন ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি রড দিয়ে আঘাত করলে সে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।

 

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা স্ত্রী

আপডেট সময় ১২:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে টুকরো অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন মালয়েশিয়া-প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়। এরপর তারা বিয়ে করেন। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

 

নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

এরপর আসমা আক্তার জিয়ার মরদেহ ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। পরে একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কয়েক টুকরো বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

 

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

 

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে জিয়ার চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত জিয়ার আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করে বলেন, আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করত। ঘটনার দিন ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি রড দিয়ে আঘাত করলে সে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।

 

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।