ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ১১ হাজার প্রবাসীকে বহিষ্কার হামে শিশুমৃত্যুতে নিজের দায় আছে কি না, জানেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালেবানের নতুন আইন: ‘কুমারী মেয়ের নীরবতাই’ বিয়ের সম্মতি হাম ও উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু ‘ডার্লিং, প্রশ্নপত্র এনেছি’— ছাত্রীকে ডেকে বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাঙ্গলকোটে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মন্তব্য, তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক “আইনশৃঙ্খলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে সরকার নাই হয়ে যাবে” “ইরানের বেশিরভাগ মানুষের নাম মোহাম্মদ”— ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৪ বারের মতো পেছাল

‘ডার্লিং, প্রশ্নপত্র এনেছি’— ছাত্রীকে ডেকে বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

ভারতের University of Lucknow-এর এক ছাত্রীকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগে এক সহকারী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম Paramjeet Singh। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়মিত নিজের কাছে আসতে চাপ দিতেন।

প্রকাশিত অডিওতে অধ্যাপককে বলতে শোনা যায়, “ডার্লিং, তোমার জন্য দুটি প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছি। কবে দেখা করতে আসবে?” জবাবে ওই ছাত্রী জানান, তার পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে এবং প্রশ্নপত্রের আর প্রয়োজন নেই। এরপরও পরীক্ষার আগে সাত দিনের মধ্যে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওর শেষাংশে ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, তাকে আবারও শারীরিকভাবে হেনস্তার উদ্দেশ্যে ডাকা হচ্ছে।

পরে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের বিএসসি পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী দুটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য J P Saini অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অধ্যাপককে আটক করেছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের “অভ্যন্তরীণ রাজনীতির” কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad (এবিভিপি)। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি Jai Srivastava অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ১১ হাজার প্রবাসীকে বহিষ্কার

‘ডার্লিং, প্রশ্নপত্র এনেছি’— ছাত্রীকে ডেকে বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

আপডেট সময় ০৭:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ভারতের University of Lucknow-এর এক ছাত্রীকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগে এক সহকারী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম Paramjeet Singh। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়মিত নিজের কাছে আসতে চাপ দিতেন।

প্রকাশিত অডিওতে অধ্যাপককে বলতে শোনা যায়, “ডার্লিং, তোমার জন্য দুটি প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছি। কবে দেখা করতে আসবে?” জবাবে ওই ছাত্রী জানান, তার পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে এবং প্রশ্নপত্রের আর প্রয়োজন নেই। এরপরও পরীক্ষার আগে সাত দিনের মধ্যে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওর শেষাংশে ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, তাকে আবারও শারীরিকভাবে হেনস্তার উদ্দেশ্যে ডাকা হচ্ছে।

পরে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের বিএসসি পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী দুটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য J P Saini অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অধ্যাপককে আটক করেছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের “অভ্যন্তরীণ রাজনীতির” কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad (এবিভিপি)। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি Jai Srivastava অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।