ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘পুষ্টির ঘাটতি’ হামে মৃত্যুর অন্যতম কারণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললো জামায়াত অর্থ সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা শাহ আলীর মাজারে হামলা, ৩ আসামি দুইদিনের রিমান্ডে পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ১১ হাজার প্রবাসীকে বহিষ্কার হামে শিশুমৃত্যুতে নিজের দায় আছে কি না, জানেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালেবানের নতুন আইন: ‘কুমারী মেয়ের নীরবতাই’ বিয়ের সম্মতি হাম ও উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু ‘ডার্লিং, প্রশ্নপত্র এনেছি’— ছাত্রীকে ডেকে বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

হামে শিশুমৃত্যুতে নিজের দায় আছে কি না, জানেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায় আছে কি না জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দায় আছে কি না একটু নির্দিষ্ট করে বললে আমি সংশোধন করে নেব। আমি জানি না আমার কোনো অবহেলা আছে কি না। হামের প্রথম রোগী পাওয়ার পর ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আইসিইউ চালু করেছি। কুর্মিটোলা, শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর আরও ১০টি হাসপাতালে আগামী মঙ্গলবার আইসিইউ চালু হবে।’

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।’

 

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগ পর্যন্ত মিজেলসের (হামের) কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের (হামের) একটা টিকাও আমাদের হাতে ছিল না।’

 

টিকা যথাযথ না দেওয়ায় মহামারি রূপ নিয়েছে হামজনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এ সময় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) বরাত দিয়ে এক সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইপিআই বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না, অব্যবস্থাপনার কারণে টিকাদানে ধীরগতি ছিল। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সত্য বলেছি, নাকি ইপিআই? দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি কোনো টিকা পাইনি।’

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হাম থেকে নিউমোনিয়ায় যাওয়ার অন্যতম কারণ পুষ্টির অভাব। মায়ের শরীরে কোনো পুষ্টি নেই। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এসব মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত ব্রেস্টফিডিং করান না। বাচ্চারা ৯ মাস পর্যন্ত মায়ের কাছ থেকেই ইমিউনিটি নিয়ে থাকে। বাচ্চাদের যদি মায়েরা নিয়মিত বুকের দুধ না খাওয়ান, তাহলে বাচ্চা তো অপুষ্টিতে থাকবেই। এই পুষ্টির অভাবে অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলেই শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে।’

 

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে র‌্যাশ দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকেই অন্যের শরীরে হাম ভাইরাস ছড়াতে থাকে। একজন হামের রোগী সর্বোচ্চ ১৮ জনকে হাম ছড়াতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে শিশুদের অন্য বাচ্চাদের থেকে একটু নিরাপদে রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোতেও নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন হামে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকে।

 

অনুষ্ঠানে ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ প্রমুখ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পুষ্টির ঘাটতি’ হামে মৃত্যুর অন্যতম কারণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামে শিশুমৃত্যুতে নিজের দায় আছে কি না, জানেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দেশে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায় আছে কি না জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দায় আছে কি না একটু নির্দিষ্ট করে বললে আমি সংশোধন করে নেব। আমি জানি না আমার কোনো অবহেলা আছে কি না। হামের প্রথম রোগী পাওয়ার পর ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আইসিইউ চালু করেছি। কুর্মিটোলা, শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর আরও ১০টি হাসপাতালে আগামী মঙ্গলবার আইসিইউ চালু হবে।’

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।’

 

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগ পর্যন্ত মিজেলসের (হামের) কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের (হামের) একটা টিকাও আমাদের হাতে ছিল না।’

 

টিকা যথাযথ না দেওয়ায় মহামারি রূপ নিয়েছে হামজনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এ সময় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) বরাত দিয়ে এক সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইপিআই বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না, অব্যবস্থাপনার কারণে টিকাদানে ধীরগতি ছিল। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সত্য বলেছি, নাকি ইপিআই? দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি কোনো টিকা পাইনি।’

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হাম থেকে নিউমোনিয়ায় যাওয়ার অন্যতম কারণ পুষ্টির অভাব। মায়ের শরীরে কোনো পুষ্টি নেই। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এসব মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত ব্রেস্টফিডিং করান না। বাচ্চারা ৯ মাস পর্যন্ত মায়ের কাছ থেকেই ইমিউনিটি নিয়ে থাকে। বাচ্চাদের যদি মায়েরা নিয়মিত বুকের দুধ না খাওয়ান, তাহলে বাচ্চা তো অপুষ্টিতে থাকবেই। এই পুষ্টির অভাবে অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলেই শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে।’

 

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে র‌্যাশ দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকেই অন্যের শরীরে হাম ভাইরাস ছড়াতে থাকে। একজন হামের রোগী সর্বোচ্চ ১৮ জনকে হাম ছড়াতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে শিশুদের অন্য বাচ্চাদের থেকে একটু নিরাপদে রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোতেও নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন হামে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকে।

 

অনুষ্ঠানে ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ প্রমুখ।