ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প ব্রেক ফেল করা বাস যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে হেল্পার নিহত মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম বদলে ‘হোয়াইট হাউস’ রাখার দাবি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের মসজিদের টাকায় কুরবানির ছুরি কেনার জেরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬ সন্তানকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, নিখোঁজ শিশু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনে ২৪৯ খুন ঢাবি শিক্ষককে কলেজ সভাপতির পদ থেকে সরাতে ববি হাজ্জাজের চিঠি মেহেরপুরে ছাত্রলীগের পোস্টার ও খাদ্য বিতরণের ভিডিও ভাইরাল

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনে ২৪৯ খুন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার রাইসাকে গত ১৯ মে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এর আগে উত্তরের জেলা নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন এবং গাজীপুরে এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১০০ দিনে দেশজুড়ে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২২৯ টি। এসব ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৪৯ জনের।

 

হত্যাকাণ্ড বেড়েছে, শঙ্কা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে

 

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় নতুন সরকার। গত ২৭ মে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এ সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন খাতে সরকারের যুগপযোগী নানা পদক্ষেপ আশার আলো দেখালেও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি দৃশ্যমান হয়নি। বরং কোনোক্ষেত্রে তা আরও আগের চেয়েও ভয়াবহ হয়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মাসেই খুনখারাবির হার বাড়ছে।

 

জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত প্রকাশিত ‘হত্যাকাণ্ড’, ‘হত্যা করা হয়েছে’, ‘খুন’, ‘হত্যা’, ‘ধর্ষণ শেষে হত্যা’, ‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে খুন’ সম্পর্কিত সংবাদ পর্যালোচনা করেছে এশিয়া পোস্ট। এর মধ্যে আত্মহত্যা কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনাগুলো যাচাই-বাছাই করে বাদ দেওয়ার পর ২২৯টি ঘটনায় অন্তত ২৪৯ জন খুন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

 

১০০ দিনের সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকান্ডের ধরণ, ভুক্তভোগীদের বয়স এবং আট বিভাগের মাসওয়ারি পরিস্থিতি তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

খুন হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী

 

১০০ দিনে হত্যার শিকার ২৪৯ জনের মধ্যে ৫১ জনের বয়স ২ মাস থেকে ১৭ বছরের কম। যা খুন হওয়া মোট ভুক্তভোগীদের ২০ শতাংশের বেশি। আবার বয়সের হিসাব করে দেখা যায়, খুন হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৩০ এর কোটায়। ২ মাস বয়সী থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ভুক্তভোগী পাওয়া গেছে ১১৫ জন যা মোট খুনের ৪৬ শতাংশ।

 

প্রতি মাসেই ঘটছে পরিস্থিতির অবনতি

 

সংগ্রহকৃত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গেল দেখা যাচ্ছে, ১০০ দিনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনে ১৩টি ঘটনায় ১৪ জন হত্যার শিকার হন। মার্চে এমন ৪২টি ঘটনায় খুন হয়েছেন ৪৩ জন।

 

এপ্রিলে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ৮৩টি। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মাসের শেষদিকে একাধিক ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। ২০ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারী ও তার নবজাতকের গলিত লাশ মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার হয়। পরদিন (২১ এপ্রিল সকালে) নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় তিন বছরের শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

 

এসব উপাত্ত ক্যালেন্ডারভিত্তিক ফেজিং বা টেম্পোরাল ফেজিং (সময়ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের প্রচলিত প্রক্রিয়া) পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হলে, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ থেকে অবশিষ্ট ১২ দিন এবং পরবর্তী ২ মাসে নিয়মিতভাবে খুনের ঘটনা বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়। এতে দেখা যায় মে মাসের ২৭ দিনেই ৯৮টি ঘটনা ঘটেছে এবং শতাধিক মানুষ খুনের শিকার হয়েছেন।

 

কোন এলাকায় খুন বেশি, কোথায় কম

 

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০০ দিনে দেশের আট বিভাগের মধ্যে ঢাকার জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৫টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। যা মোট হত্যাকাণ্ডের এক তৃতীয়াংশের বেশি।

 

এর মধ্যে নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পাশাপাশি ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

রাজধানী ঢাকা এবং পাশ্ববর্তী জেলা যেমন-নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি খুন হয়েছে। হত্যার পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক খুন হয়েছে—যা মোট হত্যাকাণ্ডের ২২ শতাংশের বেশি।

 

অন্যদিকে সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ডের ঘটেছে রংপুর ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে। দুই বিভাগে গেল ১০০ দিনে ৯টি করে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। মোট হত্যাকাণ্ডের হিসাবে এ দু্ই বিভাগের হার ৪ শতাংশ করে।

 

এছাড়াও ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে যথাক্রমে ১১ এবং ১৩টি খুনের ঘটনার সংবাদ পাওয়া গেছে তা পুরো দেশের হিসেবে ৫ শতাংশ করে। একই সময়কালে রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ২৫ টি করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দুই বিভাগেই হত্যাকাণ্ডের হার ১০ শতাংশ করে।

 

ধর্ষণ, মাদক এবং পরকীয়ায় খুন ৫৭ জন

 

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত ২২ টি ঘটনায় ধর্ষণের আগে কিংবা পরে ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়েছে। ২৩ টি ঘটনায় পাওয়া গেছে মাদকসংশ্লিষ্টতা। এর মধ্যে মাদক কারবার নিয়ে বিরোধ কিংবা মাদকাসক্ত হয়ে হত্যার বিবরণ পাওয়া গেছে। ১২টি হত্যার ক্ষেত্রে ঘটনার প্রাথমিক সূত্রপাত ঘটেছে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জের থেকে। ১০০ দিন সময়ে খুন হওয়াদের মধ্যে ৯৩ জনই নারী এবং ৮ বছরের কম বয়সী শিশু। অর্থ্যাৎ, খুন হওয়াদের ৩৭ শতাংশই নারী ও ৮ বছরের কম বয়সী শিশু।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনে ২৪৯ খুন

আপডেট সময় ১১:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার রাইসাকে গত ১৯ মে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এর আগে উত্তরের জেলা নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন এবং গাজীপুরে এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১০০ দিনে দেশজুড়ে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২২৯ টি। এসব ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৪৯ জনের।

 

হত্যাকাণ্ড বেড়েছে, শঙ্কা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে

 

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় নতুন সরকার। গত ২৭ মে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এ সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন খাতে সরকারের যুগপযোগী নানা পদক্ষেপ আশার আলো দেখালেও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি দৃশ্যমান হয়নি। বরং কোনোক্ষেত্রে তা আরও আগের চেয়েও ভয়াবহ হয়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মাসেই খুনখারাবির হার বাড়ছে।

 

জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত প্রকাশিত ‘হত্যাকাণ্ড’, ‘হত্যা করা হয়েছে’, ‘খুন’, ‘হত্যা’, ‘ধর্ষণ শেষে হত্যা’, ‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে খুন’ সম্পর্কিত সংবাদ পর্যালোচনা করেছে এশিয়া পোস্ট। এর মধ্যে আত্মহত্যা কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনাগুলো যাচাই-বাছাই করে বাদ দেওয়ার পর ২২৯টি ঘটনায় অন্তত ২৪৯ জন খুন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

 

১০০ দিনের সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকান্ডের ধরণ, ভুক্তভোগীদের বয়স এবং আট বিভাগের মাসওয়ারি পরিস্থিতি তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

খুন হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী

 

১০০ দিনে হত্যার শিকার ২৪৯ জনের মধ্যে ৫১ জনের বয়স ২ মাস থেকে ১৭ বছরের কম। যা খুন হওয়া মোট ভুক্তভোগীদের ২০ শতাংশের বেশি। আবার বয়সের হিসাব করে দেখা যায়, খুন হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৩০ এর কোটায়। ২ মাস বয়সী থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ভুক্তভোগী পাওয়া গেছে ১১৫ জন যা মোট খুনের ৪৬ শতাংশ।

 

প্রতি মাসেই ঘটছে পরিস্থিতির অবনতি

 

সংগ্রহকৃত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গেল দেখা যাচ্ছে, ১০০ দিনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনে ১৩টি ঘটনায় ১৪ জন হত্যার শিকার হন। মার্চে এমন ৪২টি ঘটনায় খুন হয়েছেন ৪৩ জন।

 

এপ্রিলে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ৮৩টি। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মাসের শেষদিকে একাধিক ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। ২০ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারী ও তার নবজাতকের গলিত লাশ মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার হয়। পরদিন (২১ এপ্রিল সকালে) নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় তিন বছরের শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

 

এসব উপাত্ত ক্যালেন্ডারভিত্তিক ফেজিং বা টেম্পোরাল ফেজিং (সময়ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের প্রচলিত প্রক্রিয়া) পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হলে, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ থেকে অবশিষ্ট ১২ দিন এবং পরবর্তী ২ মাসে নিয়মিতভাবে খুনের ঘটনা বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়। এতে দেখা যায় মে মাসের ২৭ দিনেই ৯৮টি ঘটনা ঘটেছে এবং শতাধিক মানুষ খুনের শিকার হয়েছেন।

 

কোন এলাকায় খুন বেশি, কোথায় কম

 

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০০ দিনে দেশের আট বিভাগের মধ্যে ঢাকার জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৫টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। যা মোট হত্যাকাণ্ডের এক তৃতীয়াংশের বেশি।

 

এর মধ্যে নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পাশাপাশি ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

রাজধানী ঢাকা এবং পাশ্ববর্তী জেলা যেমন-নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি খুন হয়েছে। হত্যার পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক খুন হয়েছে—যা মোট হত্যাকাণ্ডের ২২ শতাংশের বেশি।

 

অন্যদিকে সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ডের ঘটেছে রংপুর ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে। দুই বিভাগে গেল ১০০ দিনে ৯টি করে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। মোট হত্যাকাণ্ডের হিসাবে এ দু্ই বিভাগের হার ৪ শতাংশ করে।

 

এছাড়াও ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে যথাক্রমে ১১ এবং ১৩টি খুনের ঘটনার সংবাদ পাওয়া গেছে তা পুরো দেশের হিসেবে ৫ শতাংশ করে। একই সময়কালে রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ২৫ টি করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দুই বিভাগেই হত্যাকাণ্ডের হার ১০ শতাংশ করে।

 

ধর্ষণ, মাদক এবং পরকীয়ায় খুন ৫৭ জন

 

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত ২২ টি ঘটনায় ধর্ষণের আগে কিংবা পরে ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়েছে। ২৩ টি ঘটনায় পাওয়া গেছে মাদকসংশ্লিষ্টতা। এর মধ্যে মাদক কারবার নিয়ে বিরোধ কিংবা মাদকাসক্ত হয়ে হত্যার বিবরণ পাওয়া গেছে। ১২টি হত্যার ক্ষেত্রে ঘটনার প্রাথমিক সূত্রপাত ঘটেছে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জের থেকে। ১০০ দিন সময়ে খুন হওয়াদের মধ্যে ৯৩ জনই নারী এবং ৮ বছরের কম বয়সী শিশু। অর্থ্যাৎ, খুন হওয়াদের ৩৭ শতাংশই নারী ও ৮ বছরের কম বয়সী শিশু।