ঢাকা , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মাকে অস্বীকার যুগ্ম সচিব ছেলের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনাসমালোচনার মধ্যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেছেন সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান। আজ বুধবার (৩ জুন) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রথমে আনিসুর রহমান বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঝামেলা এড়াতে মায়ের মৃত্যুর তথ্য অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে তার মা মারা গেছেন।

আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সচিবালয় থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

বুধবার(৩জুন) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ঘটনাটি তার মাকে কেন্দ্র করেই কি না। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তিনি আরও বলেন, দেশে বাবামায়ের ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন রয়েছে। প্রয়োজনে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯এ ফোন পাওয়ার পর নুরজাহান বেগমের পচাগলা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করলেও তার মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি।

প্রতিবেশীরা জানান, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে দীর্ঘদিন আলাদা থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার এক ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান এবং অন্য ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তার মেয়ে একজন স্কুলশিক্ষক বলে জানা গেছে। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত অর্ধশতাধিক সমর্থক

পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মাকে অস্বীকার যুগ্ম সচিব ছেলের

আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

এবার রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনাসমালোচনার মধ্যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেছেন সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান। আজ বুধবার (৩ জুন) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রথমে আনিসুর রহমান বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঝামেলা এড়াতে মায়ের মৃত্যুর তথ্য অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে তার মা মারা গেছেন।

আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সচিবালয় থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

বুধবার(৩জুন) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ঘটনাটি তার মাকে কেন্দ্র করেই কি না। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তিনি আরও বলেন, দেশে বাবামায়ের ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন রয়েছে। প্রয়োজনে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯এ ফোন পাওয়ার পর নুরজাহান বেগমের পচাগলা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করলেও তার মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি।

প্রতিবেশীরা জানান, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে দীর্ঘদিন আলাদা থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার এক ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান এবং অন্য ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তার মেয়ে একজন স্কুলশিক্ষক বলে জানা গেছে।